Skip to content

গরমে চুলের নিয়মিত যত্ন নিতে যা যা করতে পারেন

গরমে চুলের যত্ন

বাংলাদেশ একটি নাতিশীতোষ্ণ দেশ। এ দেশে শীতাকালের চেয়ে গরমকালের প্রভাবটাই বেশী থাকে। শীতের তুলনায় গরমে চুলের ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা বেশী থাকে। কারণ, গরমকালে বাইরে থাকে গ্রীষ্মের বৈরী পরিবেশ। বাইরে বের হলেও রোদের প্রখরতা ভালোভাবেই টের পাওয়া যায়। সূর্য ঠিক যেনো মাথার উপরেই থাকে।

এর ফলে মাথায় খুশকি (Dandruff), চুল নিষ্প্রাণ হয়ে ফেটে যাওয়া (Split end) ও ঘেমে নেয়ে চুলের একটা বিচ্ছিরি ও বাজে অবস্থা দেখা দেয়। গরমের দিনে চুল পরার সমস্যা অনেক বেশী বেড়ে যায়। একইসাথে মাথায় ঘামাচি (Rash in Scalp) দেখা দেওয়ার কারণে ত্বকে চুলকানি ও জ্বালাপোড়া ভাবের সৃষ্টি হয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে গরমে চুলের সমস্যা থেকে বাঁচতে হলে, সবার আগে চুল ভালো করে পরিষ্কার করতে হবে। দরকার হলে প্রতিদিন শ্যাম্পু করুন। অনেক সময় চুল ঘেমে গিয়ে মাথার ত্বকে ঘামাচি সৃষ্টি হয়, যা আরও চুলকালে ও টানলে চুলের গোড়া নরম হয়ে চুল পড়তে শুরু করে। ঘাম ও ধুলাবালির কারণে মাথার ত্বকে ফাঙ্গাল ইনফেকশন দেখা দেয়।

এছাড়াও অতিরিক্ত ঘাম যাতে না হয়, সেজন্য গরম আবহাওয়া ও মাথা গরম হয়ে যায় এমন পরিস্থিতি যথাসম্ভব এড়িয়ে চলুন। সব সময় বাতাস চলাচল করে ও স্বাভাবিক তাপমাত্রায় চলাফেরা করতে চেষ্টা করুন।

গরমে চুলের যত্ন (Hair Care in Hot Weather)

বাইরে মাথা ঢেকে থাকার কারণে চুলের গোড়া ঘেমে গেলে ঘরে ফিরে প্রথমে মাথার চুল শুকিয়ে নিন। ঘামে ভেজা অবস্থায় চুল কখনও বেঁধে রাখবেন না। এতে চুলের গোড়া আরো নরম হয়ে যায় ও এবং ত্বকে ঘামাচি হওয়ার কারণে চুল পড়ার হার বাড়ে।

ধুলাবালি ও ঘামের ফলে চুল ময়লা চিটচিটে হয়ে গেলে প্রতিদিন শ্যাম্পু (Herbal Shampoo)করুন। তবে প্রতিবার শ্যাম্পু করার পর মাথা পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি দিয়ে পরিষ্কার করে ফেলুন।

যদি খুশকির প্রবনতা দেখা যায়, তাহলে খুশকীনাশক শ্যাম্পু ব্যবহার করতে পারেন। তবে শ্যাম্পু দেয়ার আগে মাথায় তেল মালিশ করে নিলে আরো বেশী উপকার পাবেন। এটা এক ধরণের প্রাকৃতিক কণ্ডিশনার (Herbal Conditioner) হিসেবে কাজ করবে।

খুশকিনাশক শ্যাম্পু (Anti Dandruff Shampoo) ব্যবহার করলে আপনার চুল যদি নিষ্প্রাণ হয়ে যায়, তাহলে নিমের তেল (Neem Oil) ব্যবহার করতে পারেন। নিমের তেল (Neem Oil) ব্যবহারের কারণে মাথার খুশকী দূর হওয়ার পাশাপাশি চুল পড়া ও চুলকানিও অনেক কমবে।

চুলের জন্য হেয়ার প্যাক (Hair Pack)

চুলের পরিচর্যার জন্য সপ্তাহে একবার প্রোটিন প্যাক (Protein Pack) ব্যবহার করলে ভালো উপকারিতা পাবেন। চুলের পরিচর্যা করার জন্য টকদই (Plain Curd), মেথি গুঁড়া (Fenugreek powder), কাগজি লেবুর (Lemon) কয়েক ফোঁটা রস একত্রে মিশিয়ে নিন। এটা চুলে কয়েক মিনিট লাগিয়ে রেখে ধুয়ে নিতে পারেন। টকদই চুল আর্দ্র করবে। আর মেথি গুঁড়া চুলের উজ্জ্বলতা বাড়াবে। অন্যদিকে কাগজী লেবুর রস চুলের খুশকী দূর করতে অত্যন্ত কার্যকর। সপ্তাহে সম্ভব না হলে মাসে একবার এই প্যাক লাগাতে পারেন।

ঘরে বসে প্রোটিন প্যাক তৈরি করতে ডিমের সাদা অংশ (Egg), পাকা কলা (Ripe Banana) ও টক দই (Curd) একত্রে মিলিয়ে নিন। এই প্যাকটি চুলে এক থেকে আধা ঘণ্টা লাগিয়ে চুল ধুয়ে ফেলুন।

গরমের দিনে চুল পড়া কমাতে আমলকী (Amla) ও ক্যাস্টর অয়েল (Castor Oil) একত্রে মিশিয়ে লাগাতে পারেন। এই প্যাকটি এক ঘন্টা পর ভালো কোনও হারবাল শ্যাম্পু (Herbal Shampoo) দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।

চুল আঁটসাঁট করে না বেঁধে যথাসম্ভব হালকাভাবে বাঁধার চেষ্টা করুন। এতে গরম কম লাগবে ও তাড়াতাড়ি চুল ঘেমে যাবে না। ছেলে ও মেয়ে উভয়েই চুলের জন্য আরামদায়ক কোনও হেয়ারকাট বেছে নিতে পারেন।     

চুল শুকাতে বা ঘাম শুকাতে হলে ফ্যানের বাতাসই সবচেয়ে ভালো। এক্ষেত্রে হেয়ার ড্রায়ারের গরম বাতাস পরিহার করুন। কড়া রোদে ঘর থেকে বাইরে বের হলে অবশ্যই ছাতা সঙ্গে রাখুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

%d bloggers like this: