Skip to content

দইয়ের পুষ্টিগুণ ও উপকারিতা

মিষ্টান্ন বা নিয়মিত খাবার হিসেবে দই বা দধির কোনও জুড়ি নেই। দই হচ্ছে পুষ্টির ভাণ্ডার এবং এতে রয়েছে বহুমুখী উপকারিতা। তাই প্রতিদিনের খাবার তালিকায় দই হতে পারে একটি সুষম খাবার। দইয়ে আছে প্রোটিন, ক্যালসিয়াম, উপকারী ব্যাক্টেরিয়া ও ভিটামিন ডি। যাদের পেটে ল্যাক্টোজ সহ্য হয় না তাঁরা বিকল্প হিসেবে দই খেতে পারেন। কারণ, এটা খুব সহজেই হজম হয় এবং এতে দুধের মতই পুষ্টিমান বজায় থাকে। দই আসলে আমাদের কী উপকার করে থাকে, চলুন তা ঝটপট জেনে নিইঃ

12e6c-500x350_225fcf2a315ec57acd11720f749cf1bb_card_sweet-2404464

১। দইয়ে থাকে ল্যাক্টোব্যাসিলাস ব্যাক্টেরিয়া যা কোলনের ব্যাক্টেরিয়াগুলোকে উদ্দীপিত করে। ফলে পেটের বর্জ্য সহজে পরিষ্কার হয়ে যায়।

২। এই ব্যাকটেরিয়া ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন বি কমপ্লেক্স শোষিত হতে সাহায্য করে। ভিটামিন বি১২ রক্তের অণুচক্রিকা গঠন করতে সাহায্য করে।

৩। অ্যান্টিবায়োটিক খেলে ডায়েটে দই রাখুন। কারণ, দইয়ের উপাদানগুলো ভালো ব্যাকটেরিয়াকে উদ্দীপ্ত করে।

৪। দইয়ের প্রোটিন দুধের মতই। তাই দইয়ে পর্যাপ্ত পরিমানে অ্যামিনো এসিড থাকে। দুধের প্রোটিন থেকে দইয়ের প্রোটিন তাড়াতাড়ি হজম হয়। খাওয়ার এক ঘন্টার মধ্যে দইয়ের প্রায় ৯০% হজম হয়ে যায়।

৫। টকদই রক্তে কোলেস্টেরলের পরিমান কমায়।

৬। ডায়রিয়া এবং কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে, খাবার হজমে সহায়তা করে।

৭। দই খেলে ভালো ঘুম হয়।

৮। প্রতিদিন কিছু পরিমাণে দই জন্ডিস, হেপাটাইটিস বি প্রতিরোধ করে।

৯। দইয়ে ক্যালসিয়াম ও ফসফরাসের পরিমান বেশী থাকায় হাড় ও দাঁতের গঠন মজবুত করে।

১০। আথ্রাইটিস, দাঁতের ক্ষয় রোগ, অস্টিওপোরোসিস রোগ প্রতিরোধ করতে প্রতিদিন দই খেতে পারেন।

১১। হৃদপিণ্ড বা লিভার সুস্থ রাখতে দইয়ের জুড়ি নেই। কারন এটা রক্তে কোলেস্টরেল এর পরিমান কমিয়ে রক্তের ধমণীগুলোকে সুস্থ রাখে।

১২। হজমের জন্য দই ভালো সহায়ক। মসলা জাতীয় খাবার খেয়ে এক কাপ দই খেয়ে নিন।

১৩। পেপটিক আলসারের ক্ষেত্রেও দই উপকারী।

১৪। দইয়ে জিঙ্ক, ভিটামিন ও ফসফরাস থাকায় এটা দিয়ে রূপচর্চাও করা যায়।

১৫। মাথার খুশকি দূর করতে টক দই খুব কাজের। মাথার তালুতে টকদই মেখে এক ঘন্টা পর পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। খুশকি চলে যাবে।

১৬। দইয়ে থাকা ক্যলসিয়াম বাড়তি ওজন নিয়ন্ত্রনে রাখতে সাহায্য করে।

১৭। দই মানসিক চাপ ও উত্তেজনা প্রশমিত করে।

প্রতিদিন ২০০-৫০০ গ্রাম দই খাওয়া যায়। এরচেয়ে বেশী খেলে শারীরিক জটিলতা তৈরি হতে পারে।

প্রতি ১০০ গ্রাম দইয়ে : ক্যালসিয়াম থাকে ১৫০ মিলিগ্রাম, ভিটামিন এ থাকে ১০২ আইইউ, প্রোটিন থাকে ৩ গ্রাম, ফ্যাট থাকে ৪ গ্রাম, ময়েশ্চার থাকে ৯০ গ্রাম, ক্যালরি ভ্যালু থাকে ৬০ কিলো ক্যালরি। তাই, খাদ্যতালিকায় দই রাখুন ও সুস্থ থাকুন। 

Leave a Reply

Your email address will not be published.

%d bloggers like this: