Skip to content

নামাযের গুরুত্বপূর্ণ কিছু মাসায়েল

নামাজ ইসলামের একটি গুরুত্বপূর্ণ আরকান। নামাজ পড়া প্রত্যেক প্রাপ্তবয়স্ক মুসলিম নরনারীর জন্য ফরজ বা অবশ্যপালনীয় কর্তব্য। কোন অবস্থাতেই নামাজ ছেড়ে দেয়া উচিত নয়, কারণ যে ব্যক্তি নামাজ পড়ে না, ইসলামে তাঁর কোন অংশ নেই। চলুন এবার জেনে নেয়া যাক, নামাজের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ওয়াজিব কাজ ও মাসয়ালা, মাসায়েলঃ
 
মাসাআলা-১। নামায শুরু করার পূর্বে কয়েকটি কাজ করা ওয়াজিব-

১। ওজু না থাকলে ওজু করে নিবে, গোসলের প্রয়োজন থাকলে গোসল করে নিবে।
২। শরীরে বা কাপড়ে কোন নাপাক জিনিষ থাকলে, তা পরিষ্কার করে পাক করে নিবে।
৩। যে জায়গায় নামাজ পড়বে তাও পাক হতে হবে।
৪। কেবলামুখী বা কাবা গৃহের দিকে মুখ করে নামায পড়বে।
৫। যে নামায পড়বে তার জন্য মনে মনে নিয়্যত করে নিবে।

মাসআলা-২। ফিনফিনে পাতলা বা জালিদার কাপড়ের ওড়না পড়ে নামায পড়া জায়েজ নয়। বরং এমন কাপড় পড়বে, যাতে করে মাথা থেকে হাত পর্যন্ত অনায়াসে ঢাকা যায়।

মাসআলা-৩। নামায পড়ার সময় যদি কোনও অঙ্গের (যেমন, পায়ের গোছা, রান, বা বাহু) এক চতুর্থাংশ তিনবার সুবহানাল্লাহ বলা যায় এই সময় পরিমান খোলা থাকে যাতে, তবে নামাজ নষ্ট হয়ে যাবে। কিন্তু, যদি খোলার সাথে সাথেই ঢেকে নেয়া হয়, তবে নামাজ হয়ে যাবে।

মাসআলা-৪। অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়ে, নামায পড়ার সময় যদি তাঁর মাথা থেকে ওড়না সরে চুল দেখা যায়, তবে এতে তাঁর নামাজ নষ্ট হবে না। কিন্তু প্রাপ্তবয়স্ক হলে তিনবার সুবহানাল্লাহ বলা যায় এই পরিমান সময় খোলা থাকলে নামাজ নষ্ট হয়ে যাবে ও পুনরায় পড়ে নিতে হবে।

মাসআলা-৫। যদি শরীরে বা কাপড়ে কোথাও নাপাকী থাকে, এবং তা ধোঁয়ার জন্য পানি না পাওয়া যায়, তবে ঐ অবস্থাতেই নামায পড়বে।

মাসআলা-৬। যদি কারো সমস্ত কাপড় নাপাক থাকে বা পূর্ণ কাপড় নাপাক নয়, কিন্তু চার ভাগের এক ভাগের চেয়ে কম পাক থাকে, এবং এই অবস্থায় তাঁর কাছে আর কোনও কাপড় নেই, তবে তাঁর জন্য ঐ নাপাক কাপড় পরে, এমনকি কাপড় ছাড়াও নামাজ পড়া জায়েজ আছে। কিন্তু কাপড় পরে নামায পড়া উত্তম। কিন্তু যদি এক চতুর্থাংশ বা এর চেয়েও বেশি পাক থাকে, তবে কাপড় খুলে রাখা জায়েজ হবে না, ঐ কাপড়েই নামায পড়া ওয়াজিব।

মাসআলা-৭। যদি কারো কাছে মোটেও কাপড় না থাকে, তবে বিবস্ত্র অবস্থায় নামায পড়া জায়েজ আছে। এই অবস্থায় এমন জায়গায় নামায পড়বে, যেখানে কেউ দেখতে না পায়, এবং দাঁড়িয়ে পড়বে না। বরং বসে পড়বে এবং ইশারায় রুকু-সেজদা করবে। আর যদি দাঁড়িয়ে পড়ে, এবং রুকু সেজদাহ করে, তবে তাও জায়েজ আছে। নামাজ হয়ে যাবে, তবে বসে পড়া ভালো।

মাসআলা-৮। মুসাফির অবস্থায় কারো কাছে যদি এই পরিমান পানি থাকে, যে অজূ করলে নাপাকী ধোয়া যায় না, আর নাপাকী ধুলে ওজু করা যায় না। এই অবস্থায় ঐ পানি দ্বারা নাপাকী ধুবে এবং পরে অজুর পরিবর্তে তায়াম্মুম করে নিবে।

মাসাআলা-৯। যোহরের নামাজ পড়ার পর কেউ যদি জানতে পারলো যে, যেই সময়ে নামায পড়েছে, তখন নামাযের ওয়াক্ত ছিলো না। আসরের ওয়াক্ত হয়ে গিয়েছিলো। তবে তাঁর আর কাযা পড়তে হবে না। ঐ নামাযই কাযা হিসেবে গণ্য হবে।

মাসআলা-১০। কিন্তু যদি কেউ নামায পড়ার পরে জানতে পারে যে ওয়াক্ত হওয়ার পূর্বেই সে নামাজ পড়েছে, তবে তাঁর সেই নামাজ হবে না, পুনরায় পড়তে হবে

Leave a Reply

Your email address will not be published.

%d bloggers like this: