Skip to content

তরমুজের উপকারিতা সমূহ

গ্রীষ্মের দাবদাহে যখন প্রান প্রায় ওষ্ঠাগত হয়ে উঠে তখন এক গ্লাস তরমুজের রস অথবা এক ফালি তরমুজ এনে দিতে পারে স্বস্তি। কারণ এই ফলের ৯৩ শতাংশই পানি। এবং অন্য ৭ শতাংশ ফাইবার ও বিভিন্ন ধরনের খনিজ পদার্থ।

গুণগতমানের কারনে তরমুজ ত্বকের জন্য অত্যন্ত উপকারী। তরমুজের রস ত্বকের টোনার বা উজ্জ্বলতা বৃদ্ধিকারী। ত্বকের কুঁচকে যাওয়া দূর করে ত্বককে টান টান করে তুলতে তরমুজের জুড়ী মেলা ভার।

প্রচন্ড গরমে এক গ্লাস তরমুজের রস বা একটি তরমুজের আইসক্রিম আপনার দেহ-মনে এনে দিবে অনাবিল প্রশান্তি।

সূর্যের ক্ষতিকর রশ্মি থেকে তরমুজের রস আপনার ত্বকের উপর প্রতিরোধ গড়ে তুলতে সহায়তা করে, এবং ত্বকের তাজা ভাব ও তারুণ্য ধরে রাখতে সহায়তা করে।

তরমুজ একটি বিশেষ ঋতুর ফল তা আমরা সবাই জানি। এর উপকারিতার কথা ভাবলে মনে হয় এটা যেন এই ঋতুতে প্রকৃতির দেয়া এক বিশেষ উপহার।

গ্রীষ্মকাল যেহেতু ত্বকের জন্য সবচেয়ে ক্ষতিকর একটি সময়, তাই এই সময়েই ত্বকের বিশেষ যত্ন নেয়ার প্রয়োজন দেখা দেয়। তরমুজের রস দিয়ে তা পূর্ণ হতে পারে। তরমুজের রস যে শুধুমাত্র দেহের পানির ভারসাম্য রক্ষা করে, তাই-ই নয়। একইসাথে এটা ত্বকের তারুণ্য বজায় রাখে।

তরমুজের রস খাওয়ার সাথে সাথে ত্বকের উপরিভাগে প্রলেপ হিসেবে ব্যবহারও করা যায়। তরমুজের উপকারিতা সম্পর্কে আরও জানতে এই সম্পূর্ণ লেখাটি পড়ে শেষ করুন।

ত্বকের পরিচর্যায় তরমুজ

প্রাকৃতিক টোনার হিসেবে তরমুজের ব্যবহার

প্রাকৃতিক টোনার হিসেবে তরমুজ হতে পারে অনন্য। এই ফলটি কিছুটা ক্ষারধর্মী যা ত্বকের জন্য খুবই উপকারী। ত্বকে তরমুজের রস প্রয়োগ করতে তরমুজের রস দিয়ে বরফ তৈরি করে নিতে পারেন অথবা এর নির্যাসের সঙ্গে কাঠবাদামের গুঁড়া মিশিয়ে মুখে লাগাতে পারেন। তরমুজের রস মুখে ও ঘাড়েও লাগাতে পারেন, এতে করে গরম থেকে তড়িৎ নিষ্কৃতি মিলবে।

বার্ধক্যের ছাপ মুছে দিতে পারে তরমুজ

তরমুজে আছে দুটি অতীব প্রয়োজনীয় ভিটামিন এ এবং সি। পরিমিত মাত্রার ভিটামিন এ এবং সি গ্রহণ করলে শরীরের কুঁচকানো দাগ এবং বলিরেখা মুছে দিতে সাহায্য করে। ত্বকে তরমুজের প্রলেপ দিয়ে এবং প্রতিদিন এক গ্লাস তরমুজের রস খেয়ে আপনি এই সুফল পেতে পারেন।

ত্বককে মসৃণ ও পেলব করে তুলে

তরমুজে প্রচুর পানি থাকায় তা এম্নিতেই শরীর এবং ত্বকের পুষ্টি যোগায় এবং ত্বকের উপরিভাগ মসৃন করে। কারও ত্বক অতিরিক্ত শুস্ক হলে মধুর সাথে মিশিয়ে তরমুজ খেতে পারেন যা আপনার ত্বকের শুষ্কতাকে দূর করে মসৃণ ও পেলব করে তুলবে।

গ্রীষ্মের খরতাপ ও দাবদাহে স্বাভাবিকভাবেই দেহ থেকে প্রচুর পানি বের হয়ে যায়। তাই এসব সরস ফল প্রতিদিন নিয়ম করে খেলে আপনার ত্বক উজ্জ্বল এবং প্রাণোচ্ছল থাকবে।

ত্বকের তৈলাক্ত ভাব দূর করতে তরমুজ

তরমুজ আছে প্রচুর পরিমানে ভিটামিন এ। এই ভিটামিন লোমকূপের আকার ছোট করে  এবং তেলগ্রন্থি থেকে অতিরিক্ত তেলের নিঃসরণ কমায়। এছাড়াও খনিজ উপাদান থাকায় তা প্রয়োজনীয় পুষ্টিরও জোগান দিয়ে থাকে।

ত্বকের কাঁচা ভাব ফিরিয়ে আনতে

তরমুজের রস ব্যবহারে আপনার ত্বক শিশুদের মত কোমল ও মসৃণ দেখাবে। তরমুজের রস ত্বক নবায়ন করতে সাহায্য করে এবং ত্বকের শুষ্কভাব দূর করে।

ব্রণ দূর করতে তরমুজ

তরমুজের রস দিয়ে ত্বক মালিশ করলে ব্রণ আপনাআপনিই দূর হয়ে যাবে। ব্রনযুক্ত ত্বকের জন্য এটি একটি অসাধারণ প্রতিকার ও অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট। ব্রণ থেকে তড়িৎ মুক্তি পেতে তরমুজ ব্যবহার করতে পারেন।

ত্বকের যত্নে তরমুজের বহুমুখী ব্যবহার আছে। আপনার খাদ্য ও ত্বক চর্চার কাজে এই উপকারী ফলটি অন্তর্ভুক্ত করে নিন। এবং আশা করি, আপনি খুব সহজেই আপনার স্থানীয় বাজারে এই ফলটি খুঁজে পাবেন।

অল্প পরিমাণ তরমুজ চটকে ও নিংড়ে রস বের করে নিন। একটি তুলার বল নিয়ে তা এই রসে ভিজিয়ে মুখের উপর বুলিয়ে নিন। ১৫ মিনিট অপেক্ষা করে ঠান্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে নিন।

ক্রিম হিসেবে তরমুজের রস ব্যবহার করতে মধু বা দইয়ের সাথে মিশিয়ে ত্বকের উপরিভাগে লাগাতে পারেন। বিশেষ করে মুখ বা ঘাড়ে ব্যবহার করতে পারেন। ১৫ মিনিট অপেক্ষা করে ঠান্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে নিন।

ত্বকের সৌন্দর্য রক্ষায় তরমুজের ব্যবহার

ব্রণ কমাতে: ব্রণের দাগ দূর করতে ও ব্রণ কমাতে একটি পাকা কলা ও অল্প পরিমাণ তরমুজ পেস্ট করে লাগাতে পারেন। এটা ব্রণ দূর করতে বেশ উপকারী। এই ফেসমাস্কের নিয়মিত ব্যবহার ত্বকের আবরণ ঠিক রাখে এবং ত্বক সুন্দর করে। এটি ময়েশ্চারাইজার হিসেবে ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখতেও ব্যবহার করতে পারেন।

মুখমন্ডল পরিষ্কার করতেঃ তরমুজের রস বরফ করে মুখমণ্ডলে লাগিয়ে বা ঘষে ব্যবহার করতে পারেন। মুখের বাড়তি ময়লা দূর করার সাথে সাথে এটা ত্বক পরিষ্কার করতেও সাহায্য করে।

ত্বক ঠান্ডা করতে: তরমুজের টুকরা ত্বকের ফোস্কার উপরেও লাগানো যায়। রোদে অনেকক্ষণ থাকার পর বাসায় এসে তরমুজের টুকরা ঘষলে দেখবেন, ত্বক ঠান্ডা হয়ে গেছে। এছাড়াও তরমুজের পেস্ট শুষ্ক ও ফাটা ঠোট, পুড়ে যাওয়া ক্ষত, পোকার কামড় এবং ত্বকের ফুসকুড়ি বা বয়েলের ওপর লাগানো যায়, এতে করে তাৎক্ষণিক জ্বালা-পোড়া ভাব দূর হয়।

উজ্জ্বল ও প্রদীপ্ত ত্বক পেতেঃ তরমুজে থাকা ক্যারোটিন ত্বকের বলিরেখা দূর করে। উজ্জ্বল ত্বকের জন্য তরমুজের টুকরা ঠান্ডা বরফের পানিতে ডুবিয়ে রাখুন এবং তারপর তা পুরো মুখমণ্ডলে ঘষে ঘষে লাগিয়ে নিন। তরমুজের রসে মধু মিশ্রিত করে ব্যবহার করতে পারেন। মুখে লাগানোর ১০/১৫ মিনিট পর ভেজা তুলা দিয়ে মুছে ফেলুন। তারপর হালকা কুসুম গরম পানি দিয়ে ধুয়ে নিন।

দাগ সারাতে তরমুজের রসঃ তরমুজে থাকা অ্যাসিড ত্বকের দাগ দূর করে। ২ চা চামচ ময়দা এবং ১ টেবিল চামচ তরমুজের রস মিশিয়ে ১০-১৫ মিনিট মুখে লাগিয়ে রেখে পানি দিয়ে ধুয়ে নিন। এর ফলে ত্বক পরিষ্কার হবে ও ত্বকের মরা কোষ দূর হয়ে যাবে।

বলিরেখা দূর করতেঃ তরমুজে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্টসমূহ ত্বকের ক্ষয়রোধ করতে সাহায্য করে যা কুঁচকানো ভাব এবং বার্ধক্যের ছাপ দূর করে।

তরমুজের রসের সাথে এভাকাডো ফল মিশিয়ে পেস্ট করে নিন। তারপর মুখের উপর প্রলেপ দিয়ে ২০ মিনিট রেখে হালকা কুসুম গরম পানি দিয়ে ধুয়ে নিন। বার্ধক্য দূর করতে এটা বেশ উপকারী।

টোনার হিসেবে ব্যবহার করতে চাইলে তুলার বল নিয়ে শসা ও তরমুজের রস তৈরি করে একসাথে মিশিয়ে লাগান। এর ফলে ত্বক টান টান হবে এবং বলিরেখা দূর হয়ে যাবে।

ত্বকের যত্নে তরমুজের বীজ

তরমুজের মত তরমুজের বীজও ত্বক সুন্দর করতে বেশ কার্যকর। শরীরের বাড়তি মেদ কমাতে তরমুজ বীজের তৈরি পানীয় খেতে পারেন। এছাড়াও এটা ত্বকের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। তরমুজের বীজ নিঃসৃত তেল ত্বকের জন্য বেশ উপকারী।

ত্বকের রুক্ষতা দূর করে ত্বককে চকচকে মসৃন করার জন্য ব্যবহার করতে পারেন তরমুজ বীজের তেল। এছারাও ব্রণ বা ক্ষত সারাতে এই তেল ব্যবহার করা যায়। ত্বকের লোমকূপ পরিস্কার করতে এটা অত্যন্ত সহায়ক এবং প্রায় সব ধরনের ত্বকেই ব্যবহার করা যায়। মারাত্মক কোনও চর্মরোগ বা ত্বকের ক্যান্সার হলে এই তেলের ব্যবহার বেশ উপকারী।

উপসংহার

গ্রীষ্মকালে কলিজা ঠান্ডা করতেই কেবল তরমুজ নয় বরং এর বহুমুখী ও বহুমাত্রিক ব্যবহার আছে। বিশেষ করে ত্বকের যত্নে তরমুজ অতুলনীয় ও অদ্বিতীয়। সূর্যের ক্ষতিকর রশ্মি থেকে রক্ষা করে এটা আপনার ত্বকে এনে দিতে পারে উজ্জ্বল আভা। প্রতিদিনের খাবারে তাই কম করে হলেও এক গ্লাস তরমুজের রস রাখতে পারেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

%d bloggers like this: