Skip to content

ঠাণ্ডা ও কাশি হলে করণীয়

cold and cough

ঝড়-বৃষ্টি অথবা ঠাণ্ডার মৌসুমে হঠাৎ করেই জ্বর, ঠান্ডা ও কাশিতে আক্রান্ত হয়ে পড়তে পারেন। এজন্য আমরা অনেকেই নিয়ে থাকি বাড়তি সতর্কতা। কিন্তু তারপরও মাঝে-মধ্যে শেষ রক্ষা হয় না। শুধু ঠান্ডাই লাগে না, সাথে থাকে জ্বর, কফ, নাক বন্ধ, মাথা ব্যথা, শরীর ব্যথাসহ আরও অনেক ধরনের উপসর্গ।

হঠাৎ করে ঠান্ডা লাগা আসলে তেমন বড় কোনও ব্যপার নয়, অনেকেই এমন ঠান্ডা অথবা জ্বরে আক্রান্ত হয়ে যেতে পারেন। কিন্তু এই জ্বর বা ঠান্ডা যদি কিছুদিন পর আবারও ফিরে আসে, সেটাই আসলে ভয়ের কারণ। এই ধরণের ঠাণ্ডাতে খুসখুসে কাশির সাথে বুক ব্যাথা থাকতে পারে। সাধারণত অ্যাজমা, ক্রনিক ব্রংকাইটিস এবং ক্রনিক অবস্ট্রাক্টিভ পালমোনারি ডিজিজের ক্ষেত্রে বুকব্যথা ও শ্বাস-কষ্ট হতে পারে।

তবে ডাক্তার না দেখিয়ে আগাম অনুমানের ভিত্তিতে কোনও ঔষধ গ্রহণ করবেন না। সাধারণ জ্বর ও কাশির ক্ষেত্রে স্বাভাবিকভাবে কিছু প্রাকৃতিক ঔষধ কিন্তু দারুন কাজ করে। চলুন এমনই কিছু প্রাকৃতিক ঔষধি সম্পর্কে জেনে নেয়া যাক।

। মধু, লেবুর রস ও তুলসী পাতাঃ তুলসী পাতা কাঠের হামান দিস্তায় থেঁতলে পিষে নিন। এবার গরম পানিতে কিছুক্ষন ফুটান। এর সঙ্গে ২ চামচ মধু ও ২ চামচ লেবুর রস মিশিয়ে পানিটা সকাল বিকাল খেতে পারেন।

২। কালোজিরার তেল ও মধুঃ কালোজিরার তেলের সঙ্গে সামান্য মধু মিশিয়ে খেতে পারেন। এছাড়াও সরাসরি কালোজিরা রসুন দিয়ে ভর্তা করে খেলেও উপকার পাবেন।

৩। গোলমরিচ ও লবঙ্গের চাঃ গোলমরিচ ও লবঙ্গ একত্রে থেঁতো করে নিন। এবার এটা গরম পানিতে জ্বাল দিয়ে রসটা ছেঁকে চায়ের মত খেতে পারেন। মাথা ব্যথা ও কাশির উপশম হবে। এক ব্যাগ গ্রিন টিও মেশাতে পারেন। এবং খালি খেতে না পারলে চিনির বদলে মধু মিশিয়ে খান।

৪। কাশির জলদি উপশম করতে লেবুঃ একটি লেবু চারভাগ করে এক ভাগ লবন দিয়ে সরাসরি খেয়ে দেখুন। সাথে সাথে কাশি দূর হয়ে যাবে। এছাড়াও বুকের কফ হালকা করতে সাহায্য করে লেবু। এর সঙ্গে সামান্য গোল মরিচের গুঁড়া মেশাতে পারেন।

৫। গরম দুধের সাথে মধু মিশিয়ে খানঃ এক কাপ কুসুম গরম দুধ নিয়ে সাথে এক চামচ মধু মিশিয়ে খান। বুকের জমাট বাঁধা কফ তরল হয়ে বেরিয়ে আসবে।

৬। কাজুবাদামের রসঃ কাজুবাদামের রস কাশির উপশমে বেশ কার্যকর। এ জন্য প্রথমে কাজুবাদাম পিষে নিয়ে তার সঙ্গে কমলার রস মিশিয়ে খেয়ে ফেলুন। অতিরিক্ত কাশি থাকলে তা কমে যাবে।

৭। আদার রসের চাঃ এক আঙ্গুলি সমান একটি আদা নিয়ে তা কিছুটা ছেঁচে রস বের করে নিন। তারপর এই রস জ্বাল দিয়ে তার সাথে মধু ও সবুজ চা মিশিয়ে খেতে পারেন। উপকার পাবেন।

৮। আমলকীর রসঃ কাঁচা আমলকি বা আমলকীর রস ঠান্ডার জন্য অসাধারণ উপকার করতে পারে। আমলকীকে বলা হয় ভিটামিন সি এর রাজা। আমলকীর রস প্রতিদিন সকালে মধুর সাথে মিশিয়ে ঠাণ্ডা না কমা পর্যন্ত খেতে পারেন।

উপরে বর্ণিত উপায়গুলো সাময়িক সময়ের জন্য আপনাকে ঠান্ডার কস্ট থেকে মুক্তি দিবে। কিন্তু একেবারে নিরাময়ের জন্য অবশ্যই ডাক্তার দেখাতে ভুলবেন না। ঠান্ডার সময় যেসব সতর্কতা অবশ্যই পালন করবেন, তা হচ্ছেঃ

ঠাণ্ডা বাতাস এড়িয়ে চলুন

আপনার যদি খুসখুসে কাশি থাকে এবং সাথে নাক দিয়ে পানি ঝরে তাহলে ঠাণ্ডা বাতাস ও ঠাণ্ডা পানি যথাসম্ভব এড়িয়ে চলুন। সাথে গলা ব্যথা ও বুক ব্যথা থাকলে ভারী কিছু দিয়ে এসব স্থান আবৃত করে রাখুন। সেই সঙ্গে ধুলাবালি থেকেও বেঁচে থাকুন। প্রয়োজন না হলে পাখা ছাড়বেন না।

ধূমপান ও ধূমপায়ী থেকে দূরে থাকুন

ঠান্ডা ও খুসখুসে কাশির একটি অন্যতম কারণ হচ্ছে ধূমপান করা ও ধূমপায়ীদের সংশ্রবে থাকা। ধুমপান এবং গাড়ির ধোঁয়া মানুষের শ্বাসতন্ত্রের এতটা ক্ষতি করে থাকে, যতটা ক্ষতি আর অন্য কোন কিছুই সাধারণত করে না। তাই সবার প্রথমে এই দুটি বিষয় থেকে অবশ্যই বেঁচে থাকতে হবে। তারপর আপনি ঔষধ খেলে ও নিয়ম মেনে চললে খুব দ্রুত সুস্থ হয়ে যাবেন।

গরম পানি ব্যবহার করুন

ঠাণ্ডা লাগলে পানি ব্যবহার করার দিকে সতর্ক থাকুন। গোসলের সময় গরম পানি ব্যবহার করুন। খানিকটা সময় পর পর  হালকা কুসুম গরম পানি খেলেও উপকার পাবেন। বিশেষ করে রাতে ঠান্ডা পানি একেবারেই খাবেন না। একটু বাড়তি যত্ন নিলে আপনি আবহাওয়া পরিবর্তনের কষ্ট এবং ধকল থেকে অনেকাংশে মুক্তি পাবেন। তাই একটু কস্ট হলেও এই নিয়মগুলো মেনে চলতে চেষ্টা করুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

%d bloggers like this: