Skip to content

বলিরেখা দূর করতে কার্যকর ক্রিম বা লোশন

স্বাভাবিকভাবে বলিরেখা হচ্ছে ত্বকের ভাঁজ বা ত্বক কুঁচকে যাওয়া। ত্বকের নিচের কোলাজেন স্তর কোনও কারণে ভেঙ্গে গেলে বা নষ্ট হয়ে গেলে ত্বকের উপরিভাগে ভাঁজের সৃষ্টি হয়। ত্বকে বলিরেখা বা ভাঁজ পড়ার অনেক কারণ আছে। এর মধ্যে কিছু কারণ নিচে দেয়া হলোঃ

১। অপুষ্টিঃ উপযুক্ত পুষ্টি ও ভিটামিনের অভাবে খুব অল্প বয়সেই ত্বকে বলিরেখা বা ভাঁজ দিতে পারে।

২। পানিশূন্যতাঃ মানব দেহের ৭৫% ই তরল বা পানি দিয়ে তৈরি। তাই আপনার দেহে যদি কোনও কারণে পানিশূন্যতা দেখা দেয় বা এই অবস্থা দীর্ঘদিন ধরে চলতে থাকে, তাহলে আপনার ত্বকের কোলাজেন স্তর ক্ষতিগ্রস্থ হয়ে ত্বকে ভাঁজ বা বলিরেখা দেখা দিতে পারে।

৩। বংশগতঃ বংশগত কারণেও অনেকের ত্বক খুব অল্প বয়সে বুড়িয়ে যায় বা ত্বকে ভাঁজ দেখা দেয় ও কালো হয়ে যায়।

৪। মুখের অঙ্গভঙ্গির কারণেঃ অনেককেই দেখা যায় মুখ চোখ কুঁচকে রাখে বা অহরহ চোখ কুঁচকে বিভিন্ন মুখভঙ্গি সহকারে কথা বলে। আবার অনেককে অনেক বেশী পরিমাণে হাসতে দেখা যায়। এর ফলে ত্বকের যেসব জায়গা কুঁচকে যায় সেগুলোতে ভাঁজ পড়তে দেখা যায়।

৫। বয়সঃ কোলাজেন স্তর ভেঙ্গে যাওয়ার অন্যতম কারণ হচ্ছে বয়স। বয়সের ফলে ত্বকের নিচের স্তর ক্ষয় হয়ে গেলেও সেই ক্ষয় পূর্ণ করতে শরীর প্রয়োজনীয় পুষ্টি খাবার থেকে গ্রহণ করতে পারে না। এর ফলে ত্বকে ভাঁজ পড়ে যায় ও ত্বক কুঁচকে যায়।

বাণিজ্যিক সাবান, ফেসওয়াশ ও শাওয়ার জেলের মতই আজকাল ত্বকের বলিরেখা দূর করতে বিভিন্ন ক্রিম বা লোশন পাওয়া যায়। এগুলোর কোনো কোনোটি কাজ করলেও বেশিরভাগই তেমন কাজে আসে না। কেবল টাকার শ্রাদ্ধ হয়।

আজ আমরা নারকেল তেল ও অন্যান্য প্রাকৃতিক উপাদান দিয়ে তৈরি একটি ক্রিম বানানোর প্রক্রিয়া দেখবো যা বলিরেখা দূর করতে বেশ কার্যকর। প্রতিদিন সকালে ও রাতে মুখ ধুয়ে এই ক্রিমটি ত্বকের যেসব স্থানে ভাঁজ পড়ে গেছে, কেবল সেসব স্থানে লাগিয়ে রাখলে ভালো ফল পাবেন।

এই ক্রিমে কোনও ধরণের প্রজারভেটিভ বা ছত্রাক নিরোধক ব্যবহার করা হয় নি, তাই এটা সব সময় ফ্রিজে রেখে ব্যবহার করা জরুরী।

ক্রিমটি তৈরি করতে যেসব উপাদান লাগবেঃ

  • ১ ভাগ খাঁটি নারকেল তেল
  • ১ ভাগ শিয়া বাটার।
  • ১ ভাগ অরগানিক মধুমোম
  • ২ থেকে ৩ ফোঁটা এসেনশিয়াল তেল

কিভাবে বানাবেনঃ

সবগুলো উপাদান একটি কাঁচের বাটিতে নিয়ে গরম পানির উপর দিয়ে ভালোভাবে গলিয়ে নিন নেড়ে নেড়ে মেশাতে থাকুন। তারপর সব গলে গেলে বাটি নামিয়ে আনুন। এবার দুই থেকে তিন ফোঁটা এসেনশিয়াল তেল মেশান। একটি হ্যান্ড বেন্ডারের সাহায্যে ভালো করে মিশিয়ে ফোম তৈরি করে নিন। একটি পরিষ্কার পাত্র বা কৌটায় ক্রিমটি সংরক্ষন করুন।

কিভাবে ব্যবহার করবেনঃ

রাতে শোয়ার আগে ক্রিমটি ত্বকের যেসব জায়গায় ভাঁজ হয়ে গেছে, সেসব স্থানে লাগিয়ে ঘুমিয়ে থাকুন। সকালবেলা উঠে কুসুম গরম পানি দিয়ে ধুয়ে নিন। খুব অল্পদিনেই ত্বকের ভাঁজ হালকা হয়ে যাবে বা একেবারেই মিলিয়ে যাবে।

কোলাজেন স্তর শক্তিশালী রাখতে নিচের কাজগুলো করতে পারেনঃ

১। সানস্ক্রিন ব্যবহার করাঃ ঘরে থাকুন বা বাহিরে যান, রোদের সংস্পর্শে যদি আপনার ত্বক আসে, তাহলে অবশ্যই সানস্ক্রিন ক্রিম ব্যবহার করুন। এতে আপনার ত্বকের উপরিভাগ সূর্যের অতি বেগুণী রশ্মির ক্ষতিকর প্রভাব থেকে মুক্ত থাকবে।

২। ধূমপান বর্জন করুনঃ ধূমপান ফুসফুসের ক্ষতি করার পাশাপাশি ত্বকের চামড়া মোটা ও খসখসে করে ফেলে, যার কারণে অতি সহজেই ত্বকে ভাঁজ পড়ে যায়।

৩। ঘুমঃ ত্বকের উপর ঘুমের প্রভাব অপরিসীম। কারণ ঘুমানোর সময় মানুষের বেশীরভাগ কোষ পুনর্জীবিত হয় বা ক্ষয়পূরণ করে। তাই ক্ষতিগ্রস্থ কোষ সারাতে প্রতিদিন কমপক্ষে ৭-৮ ঘণ্টা ঘুমান।

৪। মাছ ও ওমেগা ৩ সমৃদ্ধ খাবারঃ ওমেগা ৩ হচ্ছে এক ধরণের ফ্যাটি এসিড যা ত্বকের কোলাজেন স্তরকে  মেরামত করে। তাই মাছের তেল বা ওমেগা ৩ আছে এই ধরণের খাবার খেতে পারেন। এছাড়াও এই তেল যাতে শোষিত হয়, সেজন্য পাশাপাশি ভিটামিন সি জাতীয় খাবার খাওয়াও উচিৎ।

৫। মুখভঙ্গি নিয়ন্ত্রনঃ খুব বেশী নাক মুখ, কপাল কুচকে থাকলে বা অতিরিক্ত হাসার অভ্যাস থাকলে মুখের ত্বকে বলিরেখা বা ভাঁজ পড়তে দেখা যায়। তাই এই ধরণের বাজে অভ্যাস থাকলে তা ত্যাগ করুন।

৬। ত্বকের আর্দ্রতা ঠিক রাখুনঃ ত্বক অতিরিক্ত শুষ্ক হয়ে গেলে বা খসখসে হয়ে গেলে খুব সহজেই বলিরেখা বা ভাঁজ পড়ে যায়। তাই ত্বক যথাসম্ভব আর্দ্র রাখতে হবে। ত্বকের পিএইচ লেভেল ঠিক রাখতে তৈলাক্ত ত্বক হলে মুখে ডিমের সাদা অংশ বা অ্যালোভেরা ফোমিং করে লাগাতে পারেন। শুষ্ক ত্বক হলে তৈলযুক্ত ময়েশ্চারাইজার লাগাতে পারেন।

৭। তাজা ফলমূল ও শাক সব্জিঃ ত্বক ঠিক রাখতে তাজা ফল ও শাক সবজি অত্যন্ত উপকারী। ফলমূল খাওয়ার ফলে পেট পরিষ্কার থাকে ও প্রয়োজনীয় ভিটামিন পাওয়ার ফলে খাদ্যদ্রব্যের প্রয়োজনীয় উপাদান সহজে শোষিত হয়। এর সরাসরি প্রভাব ত্বকের উপর পড়ে।

তাহলে দেখা যাচ্ছে, শুধুমাত্র ক্রিম ব্যবহার করে ত্বকের তারুন্য ধরে যায় না। এর জন্য মনোদৈহিক সুস্থতা ও যত্নের প্রয়োজন হয়। উপরের নিয়মগুলো মেনে চলুন এবং বেশী বয়সেও ত্বকের তারুণ্য ধরে রাখুন। ভালো লাগলে বন্ধুদের সাথেও টিপসগুলো শেয়ার করুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

%d bloggers like this: