Skip to content

বেকিং সোডার ১৫টি ব্যবহার

প্রাচীন মিশরীয় আমল থেকেই মানুষ বেকিং সোডার বিভিন্ন ব্যবহার সম্পর্কে জানে। কিন্তু বর্তমানে বেকিং সোডা প্রায় ৩০০ উপায়ে ব্যবহৃত হচ্ছে। বেকিং সোডা সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয় গৃহস্থালি কাজে। ঘরের মেয়েরা প্রায় শত বছর ধরে বেকিং সোডা ব্যবহার করে আসছে। এই টিউটোরিয়ালে আপনি বেকিং সোডার ১৫ টি জনপ্রিয় ব্যবহার সম্পর্কে জানবেন।

baking-soda-5087813

আমাদের সবার ঘরেই বেকিং সোডা থাকে। কিন্তু আপনি কি কেবল শুধুমাত্র বেকিং এর ক্ষেত্রেই বেকিং সোডা ব্যবহার করেন?

জেনে অবাক হবেন যে বেকিং সোডা কেবলমাত্র বেকিং ও বুকের জ্বালা পোড়া ভাব দূর করতেই কার্যকর নয়। এর আরো বহুবিধ ব্যবহার রয়েছে।

আপনার প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের লিস্টে বেকিং সোডা সবার আগে থাকবে এতে কোন সন্দেহ নেই। কারণ এটা বিশ্বের সমস্ত দেশেই পাওয়া যায়। ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা থেকে শুরু করে কেক তৈরি করা যে কোন ক্ষেত্রে বেকিং সোডা একটি অত্যন্ত প্রয়োজনীয় উপাদান। এমনকি পোকার কামড়েও বেকিং সোডা ব্যবহার করা হয়ে থাকে।

এসবের পাশাপাশি আপনি গৃহস্থালি পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার কাজে বেকিং সোডা ব্যবহার করতে পারেন। সাধারণত পরিষ্কার পরিছন্নতায় যেসব উপাদান ব্যবহৃত হয় সেগুলোতে অনেক ক্ষতিকর কেমিক্যাল থাকে। কিন্তু বেকিং সোডা যেহেতু সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক তাই এতে ক্ষতির পরিমাণ একেবারে নেই বললেই চলে।

গৃহস্থলী পরিষ্কার পরিছন্নতা থেকে শুরু করে ব্যক্তিগত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা সব কাজেই আপনি বেকিং সোডা ব্যবহার করতে পারেন। এমনকি কসমেটিক হিসেবেও বেকিং সোডা ব্যবহার করা যায়। বেকিং সোডা দিয়ে ত্বক ও চুলের যত্ন নেওয়া যায়। ত্বকের দাগ দূর করা যায় এবং দাঁতের হলদেভাব করা যায়।

চলুন দেখে নেই আরও কি কি কাজে বেকিং সোডা ব্যবহার করা যায়:

১। প্রাকৃতিক দুর্গন্ধ নাশক: কেমিক্যাল দুর্গন্ধনাশক ব্যবহারের পরিবর্তে আপনি বেকিং সোডার সাথে এসেনশিয়াল তেল ব্যবহার করে তৈরি করতে পারেন প্রাকৃতিক দুর্গন্ধনাশক।

২। পোকার কামড়ের চিকিৎসা: পোকা কামড়ালে আক্রান্ত জায়গায় বেকিং সোডা পানিতে ভিজিয়ে প্রয়োগ করলে জ্বালাপোড়া কমে যায়।

৩। বুকের জ্বালাপোড়া দূর করতে: গ্যাস্ট্রিকের কারণে বুকের জ্বালাপোড়া দূর করতে বেকিং সোডা অত্যন্ত কার্যকর।

৪। ত্বকের স্ক্রাব হিসেবে: বেকিং সোডা ত্বক কুচকে যাওয়া, ত্বকে লালচে ভাব ও ব্রণ দূর করতে সহায়তা করে।

৫। চুলের যত্নে বেকিং সোডার ব্যবহারে চুলের ঘনত্ব ও দৈর্ঘ্য বাড়ায়।

৬। ত্বকের ফাটা দাগ দূর করতে: ত্বক ফেটে গেলে ত্বকের ফাটা দাগ দূর করতে বেকিং সোডা প্রয়োগ করলে তা হালকা হয়ে যায়।

৭। মুখের দুর্গন্ধ দূর করতে: মুখের দুর্গন্ধ বা শ্বাস-প্রশ্বাসের সাথে দুর্গন্ধ বের হলে বেকিং সোডার ব্যবহার এই দুর্গন্ধ দূর করতে সাহায্য করে।

৮। পা ফেটে যাওয়ার চিকিৎসা: গরম পানিতে বেকিং সোডা মিশিয়ে তার মধ্যে মোজা ভিজিয়ে সেই মোজা কিছুক্ষন পড়ে থাকলে পা ফাটা খুব সহজেই দূর হয়।

৯। কাপড়ের দাগ দূর করতে: বেকিং সোডার মিশ্রণ কাপড়ের দাগ দূর করতে অত্যন্ত কার্যকর।

১০। ফ্রিজ ও ওভেন এ দুর্গন্ধ দূর করতে: খাবার রাখার কারণে ফ্রিজ ও ওভেন এর দুর্গন্ধ সৃষ্টি হলে তা দূর করতে বেকিং সোডার ব্যবহার করতে পারেন।

১১। গয়না ঝকঝকে করতে: সোনার গয়নায় দাগ পড়ে ময়লা হয়ে গেছে। চিন্তার কিছু নেই বেকিং সোডার মিশ্রণে ভিজিয়ে রাখলে তা একেবারে ঝকঝকে তকতকে ও আগের মতো উজ্জ্বল হয়ে যাবে।

১২। ফুসকুড়ি দূর করতে: দেহের যেকোনো জায়গায় ফুসকুড়ি দূর করতে বেকিং সোডা ব্যবহার করতে পারেন।

১৩। রোদে পোড়া ভাব দূর করতে: রোদে পুড়ে যাওয়া ত্বকে চিকিৎসায় বেকিং সোডা ব্যবহার করলে উপকার পাওয়া যায়।

১৪। ডাল ও শস‍্য নরম করতে: অল্প সময়ে ডাল ও মোটর জাতীয় শস্য নরম করতে চান? সিদ্ধ করার সময় এক চামচ বেকিং সোডা পানির সাথে মিশিয়ে দিন।

১৫। দাঁত সাদা করতে: দাঁতের হলদে ভাব দূর করতে বেকিং সোডার জুড়ি নেই। এক চামচ বেকিং সোডা নিয়ে দাঁত ঘষে ঘষে লাগিয়ে ফেলুন তারপর ১০-১২ মিনিট রেখে মুখ ধুয়ে ফেলুন। দেখবেন, আপনার দাঁত আগের চেয়ে ঝকঝকে হয়ে গেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

%d bloggers like this: