Skip to content

উচ্চ বিপাকক্রিয়ার কারণে যেসব সমস্যা হতে পারে

সাধারণত খাবার হজমের প্রক্রিয়াকে বিপাকক্রিয়া বলে। কিন্তু আপনার খাবার যদি অতি দ্রুত হজম হয়ে যেতে থাকে তাহলে এটাকে উচ্চ বিপাক ক্রিয়া বলা হয়। একদিক থেকে এটা বেশ উপকারী। কারণ, সহজে খাবার হজম হয় এবং ক্যালোরি খরচ হয়ে যায়। ফলে অতিরিক্ত মেদ জমে না।

যেসব মেয়েদের অতি দ্রুত বিপাক ক্রিয়া সম্পন্ন হয় তারা ধীরে বিপাক ক্রিয়া সম্পন্ন হয় এমন মেয়েদের তুলনায় হালকা পাতলা গড়নের হয়ে থাকে।

happy-female-search-something-in-the-fridge-2

অপরদিকে, দ্রুত বিপাক ক্রিয়ার ফলে তাদের শরীরে সহজে মেদ জমে না এবং ওজন বৃদ্ধি পায় না। ফলে, দ্রুত বিপাক ক্রিয়া সম্পন্ন কোন মেয়ে যদি ওজন বৃদ্ধি করতে চায়, তাহলে তাকে স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি খেতে হয় এবং অল্প পরিমাণে বারবার খেতে হয়।

কিভাবে বুঝবেন আপনার বিপাকক্রিয়ার দ্রুত কিনা?

যদি আপনার বিপাক ক্রিয়া বা খাবার হজমের হার খুব দ্রুত হয়, তাহলে আপনার শরীরের ক্যালরি অন্যদের তুলনায় দ্রুত খরচ হয়ে যাবে। শরীরের বিপাক ক্রিয়া বিভিন্ন জিনিসের উপর ভিত্তি করে দ্রুত বা ধীর গতির হয়ে থাকে। এর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে বয়স, লিঙ্গ, ওজন, হরমোন, শারীরিক পরিশ্রম।

উচ্চ বিপাকক্রিয়ার বেশ কিছু লক্ষণ আছে যা দেখলে আপনি বুঝবেন আপনার শরীরে অতি দ্রুত খাবার হজম হয়ে যাচ্ছে। সেগুলো হচ্ছে:

  • সহজে ওজন বৃদ্ধি না পাওয়া, অথবা স্বাভাবিক ওজন ধরে রাখতে না পারা। যদিও আপনি নিয়মিত খাবার খেয়ে থাকেন।
  • শরীরে উচ্চতাপমাত্রা থাকা, এমনকি যখন আপনি বিশ্রাম নেন তখনও একই অবস্থা বিরাজ করা।
  • হালকা খাবার অথবা ভারী খাবার খাওয়ার পরও ক্ষুধার্ত মনে হওয়া।
  • মাসিক চক্র অনিয়মিত হওয়া এবং প্রায়ই পিরিয়ড মিস করা, যদিও আপনি গর্ভবতী নন।
  • বিপাক ক্রিয়া দ্রুত হওয়ার ফলে স্বাভাবিকের তুলনায় মূত্র ত্যাগের পরিমাণ বেড়ে যাওয়া।

যদি আপনার মনে হয় আপনার বিপাকক্রিয়া বেশ দ্রুত সম্পন্ন হচ্ছে, এবং আপনার খুব দ্রুত ক্ষুধা লেগে যাচ্ছে, তাহলে আপনি আজেবাজে খাবার না খেয়ে পুষ্টিকর খাবার খেতে পারেন।

শারীরিক কোনো সমস্যা অথবা অসুস্থতার জন্য বিপাকক্রিয়া দ্রুততর হলে ডাক্তারের সঙ্গে কথা বলুন।

অনেক সময় জ্বর, ডায়রিয়া বা অন্যান্য রোগের কারণেও বিপাক ক্রিয়া দ্রুত হয়ে থাকে।

উচ্চমাত্রার বিপাক ক্রিয়া থাকলে যেভাবে ওজন বাড়াবেন

মনে রাখবেন আপনার বিপাক ক্রিয়া যদি খুব দ্রুত হয় তাহলে আপনার দেহ স্বাভাবিকের তুলনায় ক্যালোরি দ্রুত খরচ করে ফেলে। তাই ওজন বাড়াতে হলে আপনাকে আরো বেশি খাবার খেতে হবে। কিন্তু কি খাচ্ছেন, সেদিকে অবশ্যই লক্ষ্য রাখুন। কারণ উচ্চ ক্যালরি ও চিনিযুক্ত খাবার, যেমন ক্যান্ডি, কোমল পানীয় আপনার স্বাস্থ্যের উপর নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া ফেলতে পারে।

এজন্য বারবার খেতে চেষ্টা করুন এবং রাতের খাবার কিছুটা ভারী করুন। এমন সব খাবার বেছে নিন যাতে প্রাকৃতিকভাবেই চিনি আছে যেমন, গোটা শস্য অথবা ফল।

কিছু মানুষ দ্রুত বিপাক ক্রিয়াকে আশীর্বাদ মনে করে, কারণ এর ফলে অতি দ্রুত ওজন কমানো যায়। আবার কেউ কেউ এটাকে অভিশাপ মনে করে, কারণ এর ফলে ওজন বাড়ানো বেশ কঠিন।

তবে মানুষের শরীর একেকজনের ক্ষেত্রে একেক রকম হয়ে থাকে। নিজের শরীরের স্বাভাবিক প্রক্রিয়াটিকে মেনে নেওয়াই ভালো। ঘাসের একটি দিক সবুজ মনে হলেও আরেকটি দিক কিন্তু সবসময় সবুজ থাকে না।

আপনার বিপাক ক্রিয়া যদি দ্রুত হয়ে থাকে তবে এর সঙ্গে তাল মিলিয়ে কিভাবে ওজন বাড়াতে পারবেন, সে বিষয় নিয়ে আমরা এবার আলোচনা করবো:

দ্রুত বিপাক ক্রিয়া থাকার মানে এই নয় যে আপনি কখনো আপনার ওজন বাড়াতে পারবেন না। এজন্য আপনাকে খাবারে ক্যালরির পরিমাণ বাড়াতে হবে এবং সেইসাথে খাবারটি স্বাস্থ্য সম্মত হতে হবে। এক্ষেত্রে আপনি নীচের খাবার গুলো আপনার খাদ্যতালিকায় রাখতে পারেন:

  1. বীজ এবং বাদাম জাতীয় খাবার।
  2. শর্করা সমৃদ্ধ খাবার যেমন, পাস্তা, রুটি অথবা ভাত।
  3. প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার যেমন, প্রাণীজ ও উদ্ভিজ্জ প্রোটিন।
  4. প্রাকৃতিক চিনি সমৃদ্ধ খাবার যেমন ফল।

মনে রাখবেন এ ক্ষেত্রে নিয়মিত এবং বারবার খেতে হবে। প্রতিদিন তিন বেলা খাবারের পাশাপাশি হালকা নাস্তা করুন। এছাড়াও আপনি প্রতিদিন কি পরিমাণ ক্যালোরি খরচ করছেন সেদিকে লক্ষ্য রাখুন। যে পরিমাণ ক্যালরি গ্রহণ করছেন তার থেকে বেশি যেন খরচ না হয় সেদিকে লক্ষ্য রাখুন।

অনেকে ভেবে থাকেন বিপাক ক্রিয়া ধীরে হওয়ার তুলনায় দ্রুত হওয়ার ভালো। কারণ, এর ফলে শরীরে মেদ জমে না। এ কথাটি সবার ক্ষেত্রে সঠিক নয়। কারণ, অনেকেই বিষয়টি পছন্দ করে না। বিশেষ করে যারা ওজন বাড়াতে চান। যাদের বিপাক ক্রিয়া দ্রুত হয়ে থাকে তারা সাধারণত অন্যদের তুলনায় আজেবাজে খাবার বেশি খেয়ে থাকেন।

কিন্তু, আপনার যদি স্বাস্থ্যসম্মত খাবার খেয়েও ওজন না বাড়ে তাহলে আপনাকে আজেবাজে খাবার খেয়ে ওজন বাড়াতে হবে তা আবশ্যক নয়।

সবশেষে, সুস্থ থাকা হচ্ছে শরীর ও স্বাস্থ্যের অন্যতম মাপকাঠি। আপনার ওজন যেমনই থাকুক না কেন বা আপনি মোটা বা চিকন যাই হোন না কেন, যদি সুস্থ থাকেন তাহলে কোনও সমস্যা নেই।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published.

%d bloggers like this: