Skip to content

এমব্রয়ডারি করতে কি কি জিনিস দরকার হয়

এমব্রয়ডারি করার প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ও উপাদানসমূহ

অন্যান্য কাজের মতই এমব্রয়ডারি করতে গেলে বেশ কিছু সরঞ্জামের প্রয়োজন হয়। আপনি যদি আগে থেকেই এমব্রয়ডারি করে থাকেন, তবে এইসব সরঞ্জামের বেশীর ভাগই হয়তোবা আপনার কাছে আছে। কিন্তু আপনি যদি কখনই এম্ব্রয়ডারি না করেন, বা হাতের কাজে একেবারেই নতুন হয়ে থাকেন, তবে শুরুতে আপনার খুব বেশী সরঞ্জামের দরকার হবে না। শুরুতে আপনি একটি হুপ বা এমব্রয়ডারির ফ্রেম, এমব্রয়ডারি করার জন্য সুই, এক টুকরা কাপড়, কয়েক গাছি কটন ফ্লস সুতা ও কাঁচি নিয়েই এম্ব্রয়ডারি শুরু করতে পারেন!

এম্ব্রয়ডারি করতে সাধারণত কি কি জিনিষ প্রয়োজন হয়, তা জানতে পুরো রচনাটি পড়ুনঃ

সুতা

এম্ব্রয়ডারি করার জন্য বাজারে নানা ধরনের সুতা পাওয়া যায়। এবং এগুলো বিভিন্ন উপাদানের তৈরি ও বিভিন্ন রকম হয়ে থাকে। কোনটি হয়তো মোটা, কোনটি খুব চিকন, কোনটি রেশমের, কোনটি পশমি বা কোনটি সুতির তৈরি হয়ে থাকে। প্রত্যেকটি সুতাই একটি অন্যটি থেকে আলাদা ও এগুলো সেলাই করলে ভিন্ন ভিন্ন ফলাফল পাওয়া যায়।

এম্ব্রয়ডারি ফ্লস

সর্বাধিক ব্যবহৃত এম্ব্রয়ডারি সুতা হচ্ছে এমব্রয়ডারি ফ্লস থ্রেড। এই ধরনের সুতায় আপনি অসংখ্য রং পাবেন। এবং অনেক ধরনের এমব্রয়ডারিতেই এই সুতা ব্যবহার করা হয়। একটি এম্ব্রয়ডারি ফ্লসে সাধারণত একসাথে ছয়টি সুতা থাকে। এগুলো বাড়িয়ে বা কমিয়ে নিয়ে আপনার কাংক্ষিত এমব্রয়ডারি তৈরি করতে পারবেন।

পার্ল কটন থ্রেড

কটন দিয়ে তৈরি একটি প্যাঁচানো সুতা, কিন্তু এটা এম্ব্রয়ডারি ফ্লসের মত আলাদা করা যায় না। এতে বিভিন্ন ধরনের সাইজ আছে। সাইজ ৩ হচ্ছে সবচেয়ে মোটা এবং সাইজ ১২ হচ্ছে সবচেয়ে চিকন। পার্ল কটন দিয়ে এম্ব্রয়ডারি করলে খুব চকচকে হয়। এবং এটা সুতা অথবা গাছি আকারে কিনতে পাওয়া যায়।

মেটালিক সুতা

সাধারণ নাইলন সুতার উপর ধাতুর বা প্লাস্টিকের তৈরি সুক্ষ্ম তার পেঁচিয়ে তৈরি করা হয় মেটালিক সুতা। এ ধরনের সুতায় এমব্রয়ডারি করলে তা ঝিকমিক করতে থাকে। এই ধরনের সুতাগুলো কিছুটা শক্ত যা দিয়ে কাজ করা বেশ কঠিন। তাই ছোট ছোট সুতা নিয়ে কাজ করাই ভালো।

অন্যান্য সুতা

ইয়ারন, ক্রিউয়েল থ্রেড, ক্রশেট এবং ট্যাপেস্ট্রি থ্রেড, রিবন এবং সেলাই করার বিভিন্ন সুতা দিয়েও এমব্রয়ডারিতে বিভিন্ন টেক্সচার এবং আঙ্গিক তৈরি করা যায়। এখানে প্রচুর বিকল্প আছে। তাই পরীক্ষানিরীক্ষা করতে ভুলবেন না।

সুতার মতই এমব্রয়ডারির কাপড়েও প্রচুর বৈচিত্র্য আছে। এম্বয়ডারির জন্য যেকোনো ফেব্রিকই উপযোগী। কিন্তু কিছু কিছু ফেব্রিকে এম্ব্রয়ডারির কাজ করা অন্যান্য ফেব্রিকের তুলনায় সহজ।    

বোনা কাপড়

বাজারে নানা ধরণের তাঁতে বোনা কাপড় পাওয়া যায়। এগুলো সুতি, পশমি, রেশমী, লিলেন, পলিয়েস্টার বিভিন্ন রকমের হতে পারে। এগুলোতে হাতের কাজ বা এমব্রয়ডারি করা বেশ সহজ, কারণ এগুলো বেশ শক্ত ও মজবুত যা ভারী হাতের কাজ বা সেলাইয়ের কারনে ছিঁড়ে যায় না। বোনা কাপড় বিভিন্ন ধরনের হয়ে থাকে। হালকা পাতলা ধরনের মধ্যে আছে মসলিন ও সুতি। মধ্যম মানের কাপড়ের মধ্যে আছে লিলেন এবং ভারী ধরনের ফেব্রিক হচ্ছে ক্যানভাস ও ডাক ক্লথ।

pexels-photo-1482177-6953168
Photo by Engin Akyurt on Pexels.com

ফেল্ট ফেব্রিক

ফেল্ট কাপড় দিয়ে এমব্রয়ডারি করা বেশ সহজ। কারণ এটা বেশ পুরু ও খসখসে। এই ফেব্রিকের পুরুত্ব ও রং বিভিন্ন ধরনের হয়ে থাকে। বোনা কাপড়ের মত এই কাপড়ের ধার কাটার পর নষ্ট হয় না। এগুলো বিভিন্ন প্রাকৃতিক তন্তু যেমন পশম বা উল, সিনথেটিক তন্তু রেয়ন বা এক্রিলিক বা উভয়ের সংমিশ্রণে তৈরি করা সম্ভব। সাধারণত ১০০% পশমি বা পশমির সংমিশ্রণে তৈরি করা ফেল্ট ফেব্রিকে ভালোভাবে এম্ব্রয়ডারি করা যায়।

A picture containing indoor, floor, sitting

Description automatically generated

অন্যান্য ফেব্রিক

অন্যান্য উপকরণ যেমন, নীট এবং শিয়ারস কাপড়ে এমব্রয়ডারি করা কিছুটা কঠিন, তবে অসম্ভব নয়। যেসব ফেব্রিক টেনে লম্বা করা যায় এবং পিচ্ছিল হয়, এ ধরনের ফেব্রিকে এমব্রয়ডারি করতে স্ট্যাবিলাইজার ব্যবহার করা হয়। এর ফলে এম্ব্রয়ডারি করার সময় তা নষ্ট হয় না। স্ট্যাবিলাইজার হচ্ছে এক ধরনের পাতলা কাগজ যা আঠার সাহায্যে ফেব্রিকের উল্টো দিকে লাগানো থাকে। এবং ফেব্রিকটিকে যথেষ্ট শক্ত করে থাকে, যাতে সহজে এমব্রয়ডারি বা হাতের কাজ করা যায়। এছাড়াও আপনি চাইলে কাগজ অথবা চামড়ায় এম্ব্রয়ডারি করতে পারবেন। কিন্তু এক্ষেত্রে সেলাইয়ের পরিকল্পনা করার সময় সচেতন থাকতে হবে, কারণ সেলাইয়ের কারণে কোনও গর্ত হলে বা ছিঁড়ে গেলে তা দূর করা সম্ভব নয়।

ইতিমধ্যে তৈরিকৃত বিভিন্ন জিনিসে এম্ব্রয়ডারি করা

ইতিমধ্যেই যেসব জিনিস প্রস্তুত হয়ে গেছে, যেমন, ব্যাকপ্যাক, তৈরি পোশাক এবং লিলেন কাপড়েও কিন্তু এমব্রয়ডারি করে এগুলোকে আরও সুন্দর ও স্পেশাল করে তোলা সম্ভব। এমব্রয়ডারি করার জন্য কোনও কাপড় বা উপাদান বাছাই করার সময় তা কি দিয়ে তৈরি সেদিকে অবশ্যই লক্ষ্য রাখতে হবে।

সুঁই

এমব্রয়ডারি করার সুঁই বিভিন্ন ধরনের হয়ে থাকে। কোনোটি কিছুটা বড়, কোনোটি ছোট, কোনটি মোটা, কোনোটি চিকন, কোনটির চোখ বা ছিদ্র বড়, কোনোটির খুবই ছোট। তাই আপনি কি ধরনের ফেব্রিকে কি ধরনের সুতা ব্যবহার করবেন, তার উপর ভিত্তি করে সুঁই বেছে নিন। তবে, এম্ব্রয়ডারী করার সময় হাতে বিভিন্ন ধরনের সুঁই মজুদ রাখুন, যাতে প্রয়োজনের সময় সঠিক সুঁইটি বেছে নিতে পারেন। যদি দেখেন ফেব্রিকের ভিতর দিয়ে সুতা টেনে আনতে যথেষ্ট কস্ট হচ্ছে, তবে মোটা ও কিছুটা বড় সুঁই বেছে নিন। আবার যদি দেখেন যে, সুঁইয়ের জন্য ফেব্রিকে বড় বড় গর্ত হয়ে যাচ্ছে, তাহলে পাতলা ও চিকন সুঁই বেছে নিন। সুঁই বিভিন্ন ধরনের হয়ে থাকে। নিচে তার কিছু প্রকার দেয়া হলোঃ

এমব্রয়ডারি সুঁই

এমব্রয়ডারি সুঁই কিছুটা মধ্যম আকৃতির হয় এবং এর চোখ কিছুটা লম্বা এবং সূচালো হয়। বেশীর ভাগ সাধারণ এমব্রয়ডারির ক্ষেত্রে এই ধরনের সুঁই দিয়ে কাজ করা বেশ সহজ। এই সুঁইগুলো উল্টো দিকের নম্বর থেকে পরিমাপ করা হয়। অর্থাৎ, সুঁইয়ের নম্বর যত বেশী হবে, সুঁই ততই চিকন হবে।

শেনিয়েল সুঁই

শেনিয়েল সুঁই এমব্রয়ডারি সুঁইয়ের চেয়ে কিছুটা বড় ও মোটা, এবং এর চোখ বেশ বড় ও অগ্রভাগ খুব সূচালো। এই সুঁইগুলো মোটা সুতা, উল এবং রিবন দিয়ে এমব্রয়ডারি করতে ব্যবহার করা হয়।

ট্যাপেস্ট্রি সুঁই

ট্যাপেস্ট্রি সুঁই শেনিয়েল সুঁইয়ের মতই, কিন্তু এর অগ্রভাগ ভোঁতা। এই ধরনের সুঁই যেসব ফেব্রিকের বুনন মজবুত নয়, সেগুলোর ক্ষেত্রে ব্যবহার করা যায়।

কাঁচি

সেলাইয়ের সুতা কাটার জন্য ভালো মানের একজোড়া কাঁচিই যথেষ্ট, কিন্তু হাতে বেশ কিছু বিকল্প কাঁচি রাখলে আপনি এই কাজটি খুব সহজেই করতে পারবেন।  

এমব্রয়ডারির কাঁচি

এমব্রয়ডারি বা হাতের কাজ করার জন্য আলাদা ধরনের কাঁচি পাওয়া যায়। এই ধরনের কাঁচিগুলো সাধারণত ছোট হয় এবং এর অগ্রভাগ সূচালো থাকে। এর ফলে সুতা টেনে বের করা, অনাকাঙ্ক্ষিত সেলাই অপসারণ এবং ছোটখাটো ছাঁটাই কাজ করা সহজ হয়।

ফেব্রিক শিয়ার

সাধারণত কাপড় কাটার কাঁচিকে ফেব্রিক শিয়ার বলা হয়। একজোড়া ভালো ফেব্রিক শিয়ার আপনার কাপড় কাটার কাজটিকে খুব সহজ করে দিবে। এই কাঁচিগুলো দিয়ে কেবল ফেব্রিকই কাটবেন। অন্য কিছু কাটলে এগুলো খুব দ্রুতই ভোঁতা হয়ে যাবে।

সাধারন কাঁচি

বিভিন্ন ধরনের প্যাটার্ন, কার্বন পেপার, ইন্টারফেস ইত্যাদি কাটার জন্য হাতের কাছে সব সময় এক জোড়া সাধারণ কাঁচি রাখা উচিৎ।

এম্ব্রয়ডারি হুপ বা ফ্রেম

সেলাইয়ের সময় কাপড় টান টান করে ফ্রেম বা হুপে আটকে নেয়া হয়। আমাদের দেশে সাধারণত এই বস্তুটিকে ফ্রেম বলা হয়। এভাবে টান টান করে নিলে সেলাই খুব সুক্ষ্ম ও মসৃণ হয় ও সহজে প্যাঁচ খায় না। আমরা সাধারণত কাপড়ে কারুকাজ করার সময় এই যন্ত্রটি ব্যবহার করি। ছোট, বড় বিভিন্ন আকার ও শেপের হুপ বা ফ্রেম আছে, এগুলো সাধারণত ডায়ামিটার দিয়ে পরিমাপ করা হয়।

এম্ব্রয়ডারি করার সময় লক্ষ্য রাখবেন, যাতে একটি ফ্রেমেই সম্পূর্ণ ডিজাইনটি ধরে যায়, তাহলে বার বার হুপ খুলতে ও লাগাতে হবে না। সবচেয়ে বড় হুপের ব্যস ১০ ইঞ্চি বা ২৫ সেমি পর্যন্ত হয়ে থাকে। এছাড়া কাঁথা সেলাইয়ের হুপ অনেক বড় ও প্রশস্থ হয় যা অতিরিক্তি মোটা কাপড় বা ভার বহনে সক্ষম হয়।

দাগ দেয়ার সরঞ্জাম বা সীসার পেন্সিল

কাপড়ে দাগ দেয়ার জন্য স্বাভাবিক লীড বা সীসার পেন্সিলই যথেষ্ট। এগুলোতে খুব হাল্কা দাগ হলেও একবার ধোয়ার সাথে সাথেই উঠে যায়। আর দাগ বুঝতেও তেমন অসুবিধা হয় না।

চক পেন্সিল

গাড় কাপড়ে দাগ দেয়ার জন্য চক পেন্সিল ব্যবহার করতে পারেন। সেলাইয়ের কারণে দাগ পূর্ণ না হলে ব্রাশ দিয়ে হাল্কা ঘষলেই দাগ উঠে যাবে।

পানিতে দ্রবণীয় কলম

পানিতে দ্রবণীয় কলমে এমন কালি থাকে যা পানি দিয়ে ধুলে সহজেই উঠে যায়। এ ধরনের কালি ব্যবহার করে দাগ দিলে ভিজা কাপড় বা পানি দিয়ে ধুলেই দাগ উঠে যাবে।

বাতাসে দ্রবণীয় কালি

এ ধরনের কালি ব্যবহারের পর ধীরে ধীরে হাল্কা হয়ে যায়। এবং একসময় কালির দাগ বোঝাই যায় না।

অন্যান্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম

হট গ্লু গান ও গ্লু স্টিক

কাপড়ে আঠার সাহায্যে পুঁতি ও পাথর লাগাতে হট গ্লু গান ব্যবহার হয়ে থাকে। এছাড়াও এম্ব্রয়াডারি হুপের পিছনের অংশ মসৃণ করতে ও অন্যান্য সাধারণ কাজে ব্যবহার করা হয়।

ফেব্রিক গ্লু

দুটি কাপড় জোড়া লাগাতে বা পুঁতি পাথর বসাতে অনেক সময় ফেব্রিক গ্লু ব্যবহার করা হয়। ফেব্রিক গ্লু বেছে নেয়ার সময়, যা সহজে ধোয়া যায়, অর্থাৎ স্থায়ীভাবে লেগে যায় এমন আঠা বেছে নিন।

কাপড়ের ধার সংরক্ষন করতে

ফ্রে প্রিভেন্টার

সিল্কের কাপড় এম্ব্রয়ডারি করার সময় কাপড়ের ধার থেকে সুতা উঠে নস্ট হয়ে যায়। এ অবস্থা থেকে রক্ষা পেতে এক ধরনের স্বচ্ছ তরল দিয়ে সীল করে দেয়া হয় যা কাপড়ের ধার থেকে সুতা উঠা বন্ধ করে। এর নাম ফ্রে প্রিভেন্টার

সেলাই করার পিন বা ক্লিপ

কাপড় একটির সাথে অন্যটি লাগিয়ে রাখতে পিন বা ক্লিপ ব্যবহার হয়।

মাপ নেয়ার ফিতা বা রুলার

ডিজাইনের সময় মাপ ঝোখ করতে ব্যবহার করা হয়।

আঙ্গুলের টপোর

সেলাইয়ের সময় সুঁইয়ের খোঁচা থেকে বাঁচতে এটা ব্যবহার করা হয়।

ট্রেসিং পেপার এবং কার্ডস্টক

ডিজাইন কাপড়ে বসানো ও টেম্পলেট তৈরি করতে কাজে লাগে।

কর্নার পুশিং টুল

সেলাইএর পর কাপড়ের কোন ঠিক করতে কাজে লাগে। এজন্য একটি বড় উল বোনার কাটাও ব্যবহার করতে পারেন।

প্লায়ারস

জুয়েলারী বা অন্যান্য মেটালের কারুকার্য সামগ্রী বসাতে কাজে লাগে।

সেলাই মেশিন ও থ্রেড মাস্কিং টেপ

এ দুটি দিয়ে কাপড়ের ধার থেকে সুতা বের হওয়া রোধ করা যায়।

রং ও তুলি

ফেব্রিক অথবা ফ্রেমে অন্যান্য বিবরণ ফুটিয়ে তুলতে ব্যবহার করা হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

%d bloggers like this: