Skip to content

মেশিন এমব্রয়ডারি কিভাবে শুরু করবেন এবং এজন্য যেসব উপকরণ লাগবে

মেশিন এমব্রয়ডারী

সেলাই মেশিনের সাহায্যে এমব্রয়ডারি করার পদ্ধতিকে মেশিন এমব্রয়ডারি বলে। অন্য আর দশটি হাতের কাজের মতোই মেশিন এমব্রয়ডারিতেও দক্ষতা ও মনোযোগ প্রয়োজন। আজকে আমি আলোচনা করবো কিভাবে মেশিন এমব্রয়ডারি শুরু করবেন এবং এজন্য আপনার কি কি উপকরণ লাগবে। মেশিন এমব্রয়ডারি শুরু করতে নিচের উপকরণগুলো লাগবেঃ

১। সেলাই মেশিন

২। এমব্রয়ডারী হুপ বা ফ্রেম

৩। ফেব্রিক

৪। সুঁই এবং সুতা

৫। কাঁচি

৬। স্ট্যাবিলাইজার/বেকার

৭। মেজারিং টেপ

৮। রিবন এবং লেস

৯। পিন

১০। আয়রন বা ইস্ত্রি

এবার চলুন এগুলো সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে নেই। সবার আগে আসি সেলাই মেশিন সম্পর্কে।

সেলাই মেশিনঃ

মেশিন এমব্রয়ডারি শুরু করার প্রাথমিক উপকরণ হচ্ছে সেলাই মেশিন। সেলাই মেশিন আবার বিভিন্ন রকমের হয়। যেমন, হস্তচালিত সেলাই মেশিন, পদচালিত সেলাই মেশিন বা ট্রেডল মেশিন, ইলেকট্রিক সেলাই মেশিন, কম্পিউটারাইজড এমব্রয়ডারি মেশিন ইত্যাদি। হস্তচালিত মেশিন দিয়ে এমব্রয়ডারি করার চেয়ে পদচালিত মেশিন দিয়ে এমব্রয়ডারি করা সহজ। এছাড়াও ইলেক্ট্রিক জিগজ্যাগ মেশিন দিয়ে এম্ব্রয়ডারি করলে খুব অল্প সময়ে এমব্রয়ডারি করা সম্ভব। কম্পিঊটারাইজড এমব্রয়ডারি মেশিনে কম্পিউটারের মাধ্যমে ডিজাইন সেটআপ করে দিলে তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে এমব্রয়ডারি করে দেয়। সাধারণ হস্তচালিত সেলাই মেশিনের দাম পড়বে ৫-৬ হাজার টাকা, পদচালিত সেলাই মেশিনের দাম পড়বে ৮-৯ হাজার টাকা। এছাড়া জিগজ্যাগ মেশিনের দাম পড়বে ৯-১৬ হাজার টাকা। আর কম্পিঊটারাজড মেশিনের দাম পড়বে ৪০,০০০ থেকে ১২০০০০ টাকা।

এম্ব্রয়ডারী হুপ বা ফ্রেমঃ

নরমাল হাতের কাজের মতই মেশিন এম্ব্রয়ডারীর ক্ষেত্রে কাপড় টান টান করে ধরে রাখার জন্য হুপ বা ফ্রেমের প্রয়োজন হয়। কম্পিউটারচালিত এম্ব্রয়ডারী মেশিনের সাথে এটাচ করা হুপ থাকে, যা আলাদাভাবেও কিনতে পাওয়া যায়। তবে নরমাল সেলাই মেশিনের জন্য সাধারণত কাঠ, প্লাস্টিক অথবা রাবারের হুপ সবচেয়ে বেশী ব্যবহার হয়ে থাকে। এম্ব্রয়ডারী হুপের সাইজ ৪ ইঞ্চি থেকে ১২ ইঞ্চি পর্যন্ত হয়ে থাকে।

ফ্রেব্রিকঃ

সঠিক সুঁই, সুতা ও স্ট্যাবিলাইজার ব্যবহার করে যেকোনো ফেব্রিকেই এমব্রয়ডারি করা সম্ভব। আপনি চাইলে সুতি, শিফন, জার্সি, লিনেন, নেট, সাটিন, সিল্ক, রেয়নসহ অন্য যেকোনো ফেব্রিকেই এমব্রয়ডারি করতে পারবেন। শুধু কিছু কিছু ফেব্রিকের ক্ষেত্রে আলাদা যত্ন ও মনোযোগ দিতে হবে। এছাড়া আর অন্য কিছুর দরকার নেই।

সুঁই ও সুতাঃ

এমব্রয়ডারির ক্ষেত্রে আপনি প্রাকৃতিক বা সিনথেটিক যেকোনো ধরনের সুতাই ব্যবহার করতে পারেন। তবে ফেব্রিকের দিকে লক্ষ্য রেখে সুতা বেছে নেয়াই বুদ্ধিমানের কাজ। রেয়ন, লিনেন, মাইলার, সুতি, মেটালিক ছাড়াও এমব্রয়ডারি করার জন্য আরো অনেক ধরনের সুতা পাওয়া যায়, যা থেকে আপনার পছন্দের সুতাটি বেছে নিতে পারেন। তবে, এক্ষেত্রে যে সুতা বা রঙই নির্বাচন করেন না কেন, তা যেনো আপনার কাপড়ের উপর ফুটে উঠে, সেদিকে অবশ্যই লক্ষ্য রাখবেন। সুঁইয়ের ক্ষেত্রে পাতলা কাপড় হলে চিকন সুঁই ও ভারী কাপড় হলে মোটা সুঁই বেছে নিবেন। নিচে মেশিনের সুঁইয়ের একটি পর্যায় সারনী বা টেবিল দেয়া হলো, যা থেকে আপনার পছন্দের সুঁই বেছে নিতে পারেনঃ

ফেব্রিকসুঁইয়ের সাইজস্টিচের দৈর্ঘ্য
নিখুঁত বুনন৯-১১১০-১৫
হালকা বুনন১১-১৪১২-১৫
মধ্যম বুনন১১-১৪১২-১৫
ভারী বুনন১৬-১৮১০-১২
মেশিনের সুঁইয়ের একটি পর্যায় সারনী

সাধারণত এমব্রয়ডারির ক্ষেত্রে ১১, ১৪ এবং ১৬ মাপের সুঁই সবচেয়ে বেশী ব্যবহার করা হয়ে থাকে। তাই যদি আপনার সংগ্রহে এই তিনটি সাইজ থাকে, তাহলে আপনার আর অন্য কোনও সাইজের সুঁইয়ের দরকার হবে না।

কাঁচিঃ

এম্ব্রয়ডারির সুতা কাটতে কাঁচির প্রয়োজন হয়। এমব্রয়ডারির জন্য বিভিন্ন স্টাইল এবং সাইজের কাঁচি পাওয়া যায়। এজন্য নির্দিষ্ট কোনও ব্র্যান্ডের কাঁচি না কিনে আপনার নিজস্ব পছন্দ অনুযায়ী কিনতে পারেন। তবে কাঁচি কেনার ক্ষেত্রে খেয়াল রাখবেন যাতে আপনার কাঁচিটির অগ্রভাগ সূচালো হয়, দুই হাতে ধরে সাবলীলভাবে কাটা যায়, সুক্ষ্মভাবে কাটা সম্ভব হয়, স্টেইনলেস স্টিলের এবং যথেষ্ট ধারালো হয়। এছাড়াও সোজা ও বাঁকা দুই ধরনের কাঁচি পাওয়া যায়। যেটা দিয়ে কাটতে সবচেয়ে বেশী স্বাচ্ছন্দ্য অনুভূত হবে, সেটাই বেছে নিবেন। ব্যবহারের পর নির্দিষ্ট বাক্সে রেখে দিন। এবং এই কাঁচি দিয়ে কাগজ, কাপড় বা অন্যকিছু কাটবেন না যাতে এটার ধার ঠিক থাকে।

স্ট্যাবিলাইজার/বেকারঃ

সাধরনত কাপড়ের উল্টো দিকে স্ট্যাবিলাইজার বা বেকার দিয়ে কাপড় শক্ত করে এমব্রয়ডারি করা হয়। বাজারে অনেক ধরনের স্ট্যাবিলাইজার পাওয়া যায়। এগুলো কোনও কোনটি ঘষে দূর করা যায়, কোণটা কেটে দূর করতে হয় আবার কোন কোনটা ধুইলেই চলে যায়। সুন্দরভাবে এমব্রয়ডারি করতে হলে অবশ্যই আপনাকে সঠিক স্ট্যাবিলাইজার বা বেকার বেছে নিতে হবে।

মেজারিং টেপঃ

মেজারিং টেপ বা মাপার ফিতা দিয়ে কাপড় সঠিক মাপে কেটে নেয়া যায়। এছাড়াও ডিজাইন কোথায় বা কত দূরে বসবে তা ঠিক করতে ও ডিজাইনের মাপ নিতেও মেজারিং টেপ লাগে। এক্ষেত্রে আপনি খুব সাধারণ একটি মাপার ফিতা ব্যবহার করতে পারেন।

রিবন এবং লেসঃ

মেশিন এমব্রয়ডারিতে বিভিন্ন ধরণের কারুকাজ ফুটিয়ে তুলতে বা কাপড়ের ধার অলংকরণ করতে অনেক সময় রিবন বা লেস ব্যবহার করা হয়। তাই এমব্রয়ডারি শুরু করার আগে পচন্দমতো লেস বা রিবন সংগ্রহ করে নিতে পারেন। লেস দিয়ে ফুল, গাছপালা ও লতাপাতা খুব সহজেই ফুটিয়ে তোলা যায়।

পিনঃ

এমব্রয়ডারির সময় ফেব্রিক আটকে রাখতে পিন অথবা সেফটি পিন দারুণ কাজে লাগে। যেমন প্যাচ ওয়ার্কের সময় অতিরিক্ত কাপড়টিকে আটকে রাখা, ডিজাইনের প্যাটার্ন অনুযায়ী লেস বা রিবন কাপড়ের সঙ্গে আটকে রাখা ইত্যাদি। সাধারণত তিন ধরনের পিন দেখা যায়। যেমন, সেফটি পিন, বিড হেড পিন ও ফ্লাওয়ার হেড পিন।

আয়রন বা ইস্ত্রিঃ

এমব্রয়ডারি করার সময় কাপড় আয়রন বা ইস্ত্রি করার প্রয়োজন হতে পারে। তাই একটি ভালো মানের ইস্ত্রি হাতের কাছেই রাখুন, যাতে যেকোনো প্রয়োজনে কাপড় টানটান করার কাজটি সহজেই করতে পারেন।

উপসংহারঃ

ব্যস, এই কয়টি উপকরণ নিয়েই আপনি এমব্রয়ডারি শুরু করতে পারেন। এরপরের ধাপে আসবে প্যাটার্ন তৈরি, প্যাটার্ন স্থানান্তর ও স্টেবিলাইজার সেট ও এমব্রয়ডারির বিভিন্ন স্টিচ। সেগুলো নিয়ে আরেকদিন আলোচনা করবো। আজ এ পর্যন্তই। সবাই ভালো ও সুস্থ থাকুন এই কামনায় এখানেই শেষ করছি।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

%d bloggers like this: