Skip to content

মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের চরিত্র কেমন ছিলো

নবীজীর চরিত্র

আমাদের প্রিয় নবীজী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ছিলেন অত্যন্ত দয়ালু মনের একজন মানুষ। তাঁর কাছে কেউ কিছু চাইলে তিনি তাঁকে কখনোই বিমুখ করতেন না। কিছু না কিছু অবশ্যই দান করতেন। সাথে সাথে দান করতে না পারলেও পরে দান করার ওয়াদা করতেন। তাঁর চরিত্রে নিন্মোক্ত গুনাবলী ছিলো।

  • তিনি ছিলেন সদা সত্যবাদী। মিথ্যাকে তিনি মনে প্রাণে ঘৃণা করতেন।
  • নম্রতা ও কোমলতায় তাঁর অন্তর পরিপূর্ণ ছিলো।
  • তিনি সর্বদাই ধীর, স্থির ও শান্তভাবে কথা বলতেন।
  • কটু কথা ও খারাপ কথা তিনি কখনও বলতেন না।
  • জীবনের প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের চরিত্রে কোনও দ্বিচারিতা ছিলো না।
  • তিনি চিরদিন ছিলেন সরল, মুক্ত, উদার, সুন্দর ও কল্যাণময়।
  • তাঁর সঙ্গী সাথীদের যাতে কোনও কষ্ট না হয়, সেদিকে তিনি সদা সর্বদা খেয়াল ও সজাগ দৃষ্টি রাখতেন।
  • রাত্রে ঘর থেকে বের হওয়ার সময় নিঃশব্দে জুতা পায়ে দিয়ে নিরবে তিনি ঘর থেকে বের হতেন।
  • বাইরের প্রয়োজন পূর্ণ করে খুব নিরবে ও নিঃশব্দে তিনি ঘরে প্রবেশ করতেন।
  • কারো ঘুম নষ্ট করে তাঁকে কষ্ট দিতেন না।
  • হাঁটার সময় দৃষ্টি নিচের দিকে রেখে হাঁটতেন।
  • সঙ্গীদের সাথে চলার সময় সর্বদা পিছনে পিছনে চলতেন।
  • কারো সাথে সাক্ষাৎ হলে আগে সালাম দিতেন।
  • বসার সময় খুব বিনয়ের সাথে বসতেন।
  • খাওয়ার সময় খুব একরামের সাথে খেতেন।
  • কখনোও পেট ভরে খেতেন না।
  • সুস্বাদু বিলাস দ্রব্য খাওয়া পছন্দ করতেন না।
  • সব সময় আল্লাহর ভয়ে ভীত থাকতেন।
  • আর এ কারণেই বেশীর ভাগ সময়েই নীরব থাকতেন।
  • জরুরত বা প্রয়োজন ছাড়া কথা বলতেন না।
  • যা বলতেন খুব স্পষ্ট ভাষায় বলতেন, যাতে কারো বুঝতে কষ্ট না হয়।
  • কথাকে খুব লম্বা বা খুব সংক্ষিপ্ত করে বলতেন না।
  • ব্যবহার ও কথাবার্তায় সব সময়ই নম্রতা প্রকাশ পেতো।
  • তাঁর খেদমতে কেউ হাজির হলে তাঁর যথাযথ সম্মান করতেন ও তাঁর বক্তব্য খুব মনোযোগ দিয়ে শুনতেন।
  • শরিয়াহ বিরোধী কথা বলতে শুনলে তাতে বাধা দিতেন অথবা দূরে সরে যেতেন।
  • অতি নগণ্য বস্তুকেও তিনি আল্লাহ তায়ালার অসীম নেয়ামত বলে গণ্য করতেন।
  • কোনও নেয়ামতকেই তিনি খারাপ বলতেন না।
  • এমনও কখনো বলেন নাই যে, এর স্বাদ ও গন্ধ ভালো না।
  • কোনও বস্তু তাঁর পছন্দ না হলে তিনি তা খাইতেন না বা প্রশংসা করতেন না।
  • কোনও বস্তুর দোষ খুঁজে বের করতেন না।
  • কোনও বিষয়ে বিরক্তি প্রকাশ করতেন না।
  • কারো দ্বারা কোনও ক্ষতি হলে বা কেউ কোনও কাজ নষ্ট করে ফেললে তিনি বিরক্তি প্রকাশ করতেন না।
  • হযরত আনাস রাযিয়াল্লাহু আনহুম বলেন, আমি সুদীর্ঘ দশ বছর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাথে ছিলাম এর মধ্যে তিনি কখনই এমন বলেন নি যে, এটা কেন করো নাই অথবা এটা কেন করেছো। কিন্তু শরিয়াহ এর সীমা লঙ্ঘন করলে তিনি নিজের রাগকে নিয়ন্ত্রন করতে পারতেন না।
  • নিজস্ব স্বার্থের জন্য কখনও রাগ করতেন না। তিনি যার প্রতি রাগ হইতেন তাঁর থেকে মুখ ফিরিয়ে নিতেন, ভালো মন্দ কোনো কিছুই বলতেন না।
  • কারো প্রতি অসন্তুষ্ট হলে নিচের দিকে দৃষ্টি রাখতেন।
  • তাঁর লজ্জা অবিবাহিতা মেয়েদের চেয়েও বেশী ছিলো।
  • প্রয়োজনে তিনি মৃদুভাবে হাসতেন, উচ্চস্বরে হাসা পছন্দ করতেন না।
  • সবার সাথে মিল মুহব্বত বজায় রাখতেন।
  • অহঙ্কারে মত্ত হয়ে কখনো নিজেকে বড় মনে করেন নি।
  • মাঝে মাঝে সত্য কথার মাধ্যমে হাসি ঠাট্টা করতেন।
  • নফল নামায এত বেশী পড়তেন, যে দাঁড়িয়ে থাকতে থাকতে পা ফুলে যেতো।
  • কুরআন শরীফ পড়া ও শোনার সময় আল্লাহর মুহাব্বত ও ভয়ে কেঁদে ফেলতেন।
  • সঙ্গী সাথীরা তাঁর সামনে প্রশংসা করলে নিষেধ করতেন।
  • গরীব, অসহায় ও নিঃস্ব লোকের ডাকেও সাড়া দিতে বিলম্ব করতেন না।
  • রোগী, চাই সে গরীব অথবা ধনী হউক, সর্বদাই তাঁর হাল হাকিকত জিজ্ঞাসা করতেন।
  • ধনী ও গরীব সবার জানাযাতেই তিনি শরীক থাকতেন।
  • কোনও গোলাম অথবা বাঁদির দাওয়াতও তিনি আগ্রহের সাথে গ্রহণ করতেন।
  • তাঁর আচার-ব্যবহার কখনও এমন হতো না, যাতে কেউ নিরাশ হয় বা ঘাবড়ে যায়।
  • যালেম ও দুশমনের যুলুম থেকে বাঁচার জন্য চেষ্টা করতেন, কিন্তু তাঁদের সাথে নম্র, ভদ্র ব্যবহার করতেন ও হাসিমুখে কথা বলতেন।
  • বসে কিংবা দাঁড়িয়ে সর্বাবস্থায় আল্লাহকে স্মরণ করতেন।
  • কোনও লোক সমাগমে হাজির হলে সবাই যে ধরনের আসনে বসে সেরকম আসনেই বসতেন।
  • জনসাধারণকে নিচে রেখে কখনও উচ্চ আসনে বসতেন না।
  • কয়েকজন লোকের সাথে কথা বলার সময় সবার প্রতিই দৃষ্টি রাখতেন।
  • প্রত্যেকের সাথেই এমন আচরণ করতেন, যাতে মনে হতো রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাকেই বেশী ভালবাসেন।
  • কেউ তাঁর কাছে এসে বসলে বা কথা বলতে শুরু করলে কথা শেষ না হওয়া পর্যন্ত বা ঐ ব্যক্তি না উঠা পর্যন্ত অপেক্ষা করতেন।
  • ঘরের অধিকাংশ কাজ তিনি নিজ হাতে সমাধা করতেন।
  • সব কাজে শৃঙ্খলা ও নিয়মানুবর্তিতা বজায় রাখতেন।
  • অতি সাধারণ মানুষের সাথেও তিনি খুব নম্র ও ভদ্রভাবে মিশতেন।
  • কারো দ্বারা কোনও অপকার হলেও তিনি মুখের উপর তাঁকে ধমকি দিতেন না।
  • ঝগড়া, ফাসাদ ও শোরগোলকে তিনি মোটেও পছন্দ করতেন না।
  • কেউ মন্দ আচরণ করলে তিনি তাঁর সাথে ভালো আচরণ করতেন এবং তাঁর অপরাধ মার্জনা করতেন।
  • কোনও খাদেমা, গোলাম, স্ত্রিলোক এমনকি কোনও পশুকেও তিনি নিজের হাতে কখনও মারেন নাই।
  • অবশ্য শরীয়াহ অনুযায়ী শাস্তি প্রদান করার বিষয়টি আলাদা ছিলো।
  • কোনও যালেমের যুলুমের বদলা তিনি নিতেন না।
  • তাঁর চেহারায় সব সময় হাসি ফুটে থাকতো।
  • কিন্তু অন্তর সব সময় আল্লাহর চিন্তা ও ধ্যানে মগ্ন থাকতো।
  • বেফিকির কোনও কথাই তিনি বলতেন না।
  • তাড়াতাড়ি কারো বিরুদ্ধে কুৎসাও রটনা করতেন না।
  • কোনও বিষয়ে কৃপণতা করতেন না।
  • তর্ক-বিতর্ক ও ঝগড়া বিবাদকে অন্তর দিয়ে ঘৃণা করতেন।
  • অহঙ্কার ও আত্মগরিমার লেশমাত্রও তাঁর মধ্যে ছিলো না।
  • প্রয়োজনীয় ও উপকারী কথা ছাড়া একটি অনর্থক কথাও বলতেন না।
  • মেহমান ও অতিথিদের যথাসাধ্য খেদমত করতেন।
  • কারো বেয়াদবীকে তিনি সহ্য করতেন না।

এছাড়াও হাদিস শরীফে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের আদত আখলাক সম্পর্কে আরো অনেক কিছু বলা হয়েছে। এখানে সংক্ষেপে কিছু অংশ তুলে ধরা হলো। যার উপর কেউ আমল করতে পারলে তাও যথেষ্ট হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

%d bloggers like this: