Skip to content

কিভাবে শিশুর জন্য এক জোড়া উলের মোজা বানাবেন

বাচ্চাদের উলের মোজা

আমরা আগের টিউটোরিয়ালে কিভাবে উল দিয়ে শীতের পোশাক বুনতে হয় তা নিয়ে আলোচনা করেছি। আজকে আমরা একেবারে ছোট শিশুর জন্য উলের মোজা তৈরি করার পদ্ধতি সম্পর্কে জানবো। নিচের টিউটোরিয়ালটি অনুসরণ করে আপনার সোনামনির জন্য আজই তৈরি করে নিন নজর কেড়ে নেয়ার মতো দুটি উলের মোজা, যা তাঁকে এই শীতে বেশ আরাম দিবে।

যা যা লাগবে:

তো প্রথমেই আমরা প্যাটার্ন নিয়ে আলোচনা করবো:

আমরা এখানে এক জোড়া উলের কাটা নিয়ে নিয়েছি যা হবে ৩.৫ মিলি মিটার অথবা ৪ মিলি মিটার ব্যাসের। আর নিয়েছি বেবি উল। বাজারে অনেক ধরনের বেবি উল কিনতে পাওয়া যায়। কিন্তু শিশুদের ত্বক অনেক কোমল আর নরম থাকে। তাই সবচেয়ে নরম উলটাই বেছে নিবেন। ৩.৫ মি মি বুনন কাঠি নিবেন একেবারে ছোট বাচ্চাদের জন্য। এবং ৪ মি মি বুনন কাঠি নিবেন ৪/৬ মাস বয়সী বাচ্চাদের জন্য।

প্রথমে আমরা রিব স্টিচ ব্যবহার করে মোজার উপরের অংশ বুনে নিবো। তারপর নরমাল রিভার্স স্টেকিনট স্টিচ ব্যবহার করে নিচের অংশ বুনবো। বাচ্চাদের মোজা তৈরি করা খুবই সহজ। শুধু মনোযোগ দিয়ে প্যাটার্নের দিকে খেয়াল রাখতে হবে।

প্রথমে এমন একটি ফসকা গেড়ো দিয়ে কাঠির সাথে উল আটকিয়ে নিতে হবে। তারপর কাস্টঅন বা ঘর তুলতে হবে। এখানে আমরা লংটেইল কাস্টঅন ব্যবহার করবো। তাই শেষে ধারের সুতাটি বেশ লম্বা করে নিতে হবে।

সংক্ষেপে দরকারী উপকরণ এবং প্যাটার্নটি নিচে দেয়া হলোঃ

  • বুনন কাঠির সাইজঃ ৭ অথবা ৪.৫ মিমি
  • উলের পুরুত্বঃ (৪) মাঝারি ওজনের (৪ ইঞ্চি দিয়ে ১৬-২০ স্টিচ হবে)
  • গজঃ ১৯ স্টিচ এবং ২৫ সারি = ৪ ইঞ্চি [১০ সেমি] স্বাভাবিকভাবে।
  • পরিপূর্ণ সাইজঃ ৩ মাসের (৬-১২) মাসের বাচ্চার জন্য উপযুক্ত।

যা যা লাগবেঃ

  • কটন উলঃ (৫০ গ্রা/১.৭৫ আউন্স/৭৩ মি/৮০ ইয়ার্ড) অথবা সাটিন (১০০ গ্রা/৩.৫ আউন্স/১৪৯ মি/১৬৩ ইয়ার্ড), ৫৫ (৬৫-৭৫) মি অথবা ৬০ (৭৫-৮৫) ইয়ার্ড।
  • সাইজঃ ৪.৫ মিমি (ইউ এস ৭) বুনন কাঠি অথবা ঘনত্ব অনুযায়ী সাইজ।

প্যাটার্ন

নিচে বর্ণিত প্যাটার্নটি সবচেয়ে ছোট সাইজের। যদি দরকার হয় তবে () মাঝে লিখিত বড় সাইজ অনুসরণ করতে পারেন।

সাইজঃ ৩ মাস (৬ মাস-১২ মাস)

যেভাবে বুনবেনঃ

কাস্ট অন ২৭ (৩৫-৪৩) স্টিচ।

১ম ও পরের সারিঃ (উদি)। নীট।

২য় সারিঃ নীট১ সুসাঅ(১স্টিচ)। নীট১২ (১৬-২০)। সুসাঅ(১স্টিচ)। নীট১। সুসাঅ (১স্টিচ)। নীট১২ (১৬-২০)। সুসা (১ স্টিচ) নীট১ মোট ৩১ (৩৯-৪৭) স্টিচ।

৪র্থ সারিঃ নীট১। সুসঅ। নীট১৪ (১৮-২২)। সুসাঅ। নীট১। সুসাঅ। নীট১৪। সুসাঅ। নীট১। মোট ৩৫ (৪৩-৫১) স্টিচ।

৬ষ্ঠ সারিঃ নীট১। সুসাঅ। নীট ১৬ (২০-২৪)। সুসাঅ। নীট১। সুসাঅ। নীট১৬ (২০-২৪)। নীট১। মোট ৩৯(৪৭-৫৫) স্টিচ।

নীট ১১ সারি (গার্টার স্টিচ)।

বর্ণনাঃ

প্রথমে এমন একটি ফসকা গেড়ো দিয়ে কাঠির সাথে উল আটকিয়ে নিতে হবে। তারপর কাস্টঅন বা ঘর তুলতে হবে। এখানে আমরা লংটেইল কাস্টঅন ব্যবহার করবো। তাই শেষের ধারের সুতাটি বেশ লম্বা করে নিতে হবে। প্রথমে ২৭ টি কাস্টঅন স্টিচ তুলতে হবে। এটা ৩ মাসের বাচ্চাদের মাপ। বাচ্চার বয়স যদি ৬ মাস থেকে ১২ মাস হয় তাহলে ৩৫ থেকে ৪৩ টি কাস্টঅন স্টিচ বা ঘর তুলতে হবে। এরপর প্রথম ও তাঁর বিপরীত সারিতে উল্টা দিক থেকে শুধুমাত্র নীট স্টিচ বুনতে হবে।

এবার দ্বিতীয় সারিতে একটা নীট স্টিচ বুনে সুতা সামনের দিকে এনে অতিরিক্ত ১ স্টিচ তৈরি করে আবার একটা নীট স্টিচ দিয়ে তারপর ১২ টা নীট স্টিচ/ঘর বুনতে হবে। ছয় মাসের বাচ্চাদের জন্য ১৬ ঘর নীট স্টিচ বুনতে হবে। এবং ১২ মাসের বাচ্চাদের জন্য ২০ ঘর বুনতে হবে। এবার সুতা সামনের দিকে এনে অতিরিক্ত একটি ঘর তুলে আবার একটি নীট স্টিচ, আবার সুতা সামনে এনে ১ স্টিচ, এরপর ১২ টা ণীট বুনতে হবে। এবার সুতা সামনের দিকে এনে ঘর তুলে একটা নীট, এভাবে মোট ৩১ স্টিচ (৩৯-৪৭) স্টিচ বুনে যেতে হবে। তৃতীয় সারি স্বাভাবিক ভাবে বুনে যেতে হবে।

চতুর্থ সারিতে, নীট একবার তারপর সুতা সামনে এনে অতিরিক্ত স্টিচ তৈরি করে ১৪ (১৮-২২) ঘর বুনতে হবে। তারপর সুতা সামনে এনে একটি ঘর, একটি নীট, আবারো ১৪ টি নীট (১৮-২২) ঘর বুনতে হবে। এবার সুতা সামনে এনে এক ঘর, তারপর একটি নীট এভাবে মোট ৩৫ ঘর (৪৩-৫১) স্টিচ বুনতে হবে। পঞ্চম সারি স্বাভাবিক বুনে যেতে হবে।

এরপর, ষষ্ঠ সারিতে একই পদ্ধতিতে ১৬ ঘর (২০-২৪) এবং একবার সামনে এনে নীট তারপর আবার সামনে এনে এভাবে ১৬ ঘর (২০-২৪) পুনরায় সামনে এনে নীট স্টিচ দিয়ে মোট ৩৯ (৪৭-৫৭) ঘর পর্যন্ত বুনতে হবে।

ছয়টি সারির পর এবার ১১ নম্বর সারি পর্যন্ত শুধু গার্টার স্টিচ (নীট) বুনে যেতে হবে।

পায়ের পাতার শেপঃ

১ম সারিঃ নীট১৫ (১৯-২৩)। নীট২এ। ণীট৫। স্লিপ১। ণীট১। পাসও। স্লিপ১। সুঘুসা। পরের সারি।

২য় সারিঃ নীট২এ। নীট৫। স্লিপ১। ণীট১। পাসও। সুঘুসা। স্লিপ১পা। পরের সারি।

৩য় সারিঃ নীট২এ। নীট৫। স্লিপ১। নীট১। পাসও। স্লিপ১। সুঘুসা। পরের সারি।

৪র্থ সারিঃ ২য় সারির মতোই।

৫ম সারিঃ নীট২এ। নীট৫। স্লিপ১। নীট১। পাসও। স্লিপ১। পরের সারি।

৬ষ্ঠ সারিঃ পার্ল২এব্যালু। পার্ল৫। পা২এ। নীট১। পাসও। স্লিপ১পা। পরের সারি।

৭ম এবং ৮ম সারিঃ ৫ম এবং ষষ্ঠ সারির মতোই।

৯ম সারিঃ ণীট২এ। নীট৫। স্লিপ১। নীট১। পাসও। সারির শেষতক নীট। ২১ (২৯-৩৭) স্টিচ

১০ম সারিঃ পার্ল।

২(আড়াই-আড়াই) [৫ (৬-৬) সেমি] ইঞ্চি গার্টার বুনে যেতে হবে যা উল্টো সারিতে শেষ করতে হবে। কাস্ট অফ করতে হবে।

বিস্তারিত বর্ণনাঃ

এবার পায়ের পাতার শেপ তৈরি করতে নিচের চার্ট অনুযায়ী বুনে যেতে হবে।

পায়ের পাতার শেপ

প্রথম সারিঃ ১৫ (১৯-২৩) স্টিচ নীট। এরপর দুটি স্টিচ একত্রে নিয়ে একটি নীট। এরপর নীট এর মত করে একটি স্টিচ ছেড়ে দিতে হবে। আবার একটি স্টিচ নীট করতে হবে। ছেড়ে দেয়া স্টিচ বাদ দিয়ে যেতে হবে। আবারও একটি স্টিচ নীটের দিকে ছেড়ে যেতে হবে। তারপর সুতাটি সামনের দিকে আনতে হবে। ঘুরিয়ে আবার পরের সারি শুরু করতে হবে।

দ্বিতীয় সারিঃ দুই স্টিচ একত্রে নীট। তারপর পাঁচটি নীট স্টিচ। এক স্টিচ বাদ। আরও একটি নীট। বাদ দেয়া স্টিচের উপর দিয়ে সুতা সামনের দিকে আনতে হবে। পরের স্টিচ পার্লের মতো করে বাদ দিতে হবে। ঘুরিয়ে আবার পরের সারি।

৩য় সারিঃ দুই স্টিচ একত্রে নীট। তারপর পাঁচটি নীট। নীট ওয়াইজ এক স্টিচ বাদ। বাদ দেয়া স্টিচের উপর দিয়ে বুনে যেতে হবে। আরও একটি স্টিচ নীট ওয়াইজ বাদ। সুতা সামনের দিকে আনতে হবে। ঘুরিয়ে পরের সারি বুনতে হবে।

৪র্থ সারিঃ ২য় সারির মতো করে বুনতে হবে।

৫ম সারিঃ নীট ২ একত্রে। ৫ নীট। ১ স্টিচ নীট ওয়াইজ বাদ। একটি নীট। এক স্টিচ নীট ওয়াইজ বাদ। ঘুরিয়ে পরের সারি।

৬ষ্ঠ সারিঃ পিছনের লুপ দিয়ে দুটি স্টিচ একত্রে পার্ল। ৫ টি পার্ল। দুই স্টিচ একত্রে পার্ল। এক স্টিচ নীট ওয়াইজ বাদ। ঘুরিয়ে পরের সারি।

৭ম ও ৮ম সারিঃ ৫ম এবং ৬ষ্ঠ সারির মতো করে আরও একবার।

৯ম সারিঃ নীট ২ একত্রে। ৫ নীট। এক স্টিচ নীট ওয়াইজ বাদ। বাকি ২১ (২৯-৩৭) স্টিচ শেষ পর্যন্ত নীট।

১০ম সারিঃ পার্ল বুনতে হবে।

বাকি 2 (2½-2½) ইঞ্চি [5 (6-6) cm], গার্টার স্টিচ বুনতে হবে, যা উল্টো দিকের সারিতে শেষ হবে। এবং কাস্ট অফ করে কাজ শেষ করতে হবে।

ফিনিশিংঃ

সব শেষে এবার জোড়া লাগানোর পালা। এবার সোল সীম, ব্যাক সীম এবং উলটা সীম জোড়া লাগাতে হবে 1½ ins [4 cm] কাস্ট অফ প্রান্ত থেকে জোড়া দিয়ে উল্টিয়ে সোজা করে নিলেই কাংক্ষিত মোজাটি তৈরি হয়ে যাবে।

জানেন কি?

এই ছোট্ট এক জোড়া মোজা উপহার দিয়ে আপনি আপনার পরিচিত কারো জীবনে অপার আনন্দ এনে দিতে পারেন। ছোট বাচ্চাদের পায়ের তালু সব সময় গরম রাখতে হয়! তাই প্রথম বছরে এই মোজাগুলো তাঁদের পা গরম রাখতে বেশ উপকারী। এই সময়ে তাঁরা হাটতে পারে না। এবং তাঁদের পা খুব দ্রুত বড় হয়। তাই এই ছোট ছোট মোজাগুলো জুতার পরিবর্তে আপনি সারা বছর জুড়েই তাঁদের পায়ে পরিয়ে রাখতে পারেন।

বাচ্চারা হাঁটতে শিখলে দিনে ২৫০০০ বার তাঁদের পা সামনের দিকে চালানোর চেষ্টা করে। এ সময় আপনি তাঁদেরকে নন স্লিপ উলের মোজা পরিয়ে রাখতে পারেন। যা তাঁদের পায়ের বেড়ে ঊঠায় কোনও সমস্যার সৃষ্টি করবে না। বাচ্চাদের পায়ে বড়দের পায়ের তুলনায় তিনগুণ চাপ পড়ে। তাই তাঁরা হাঁটতে শিখে গেলে তাঁদেরকে ভালো মানের জুতা পরাতে চেষ্টা করুন। যেহেতু তাঁরা খুব দ্রুত বড় হয়ে যায়। তাই, তিন মাস পর পর তাঁদের জুতা বদলে দেয়া ভালো।

প্যাটার্নে সংক্ষিপ্ত আকারে যা বোঝানো হয়েছেঃ

নীটঃ নীট স্টিচ।

উদিঃ উলটা দিকে।

ণীট২এঃ পরের দুটি স্টিচ একত্রে একটি নীট হবে।

ণীট২এব্যালুঃ পিছনের লুপ বা গেঁড়ো দিয়ে একত্রে দুটো স্টিচ নীট করতে হবে।

পার্ল২এঃ দুটি স্টিচ একত্রে পার্ল করতে হবে।

পার্ল২এব্যালুঃ পিছনের লুপ দিয়ে দুটি স্টিচ একত্রে পার্ল করতে হবে।

পাসওঃ স্লিপ স্টিচের উপর দিয়ে যেতে হবে

স্লিপ১ঃ পরের স্টিচ নীটওয়াইজ নামিয়ে দিতে হবে।

স্লিপ১পাঃ পরের স্টিচ পার্ল ওয়াইজ নামিয়ে দিতে হবে।

সুসাঅঃ সুতা সামনের দিকে এনে (অতিরিক্ত ১ স্টিচ) বুনতে হবে।

সুঘুসাঃ সুতা ঘুরিয়ে কাজের সামনের দিকে আনতে হবে।

উপসংহারঃ

আশা করি, বাচ্চাদের জন্য উলের মোজা বোনার আগা গোড়া কৌশল রপ্ত করতে পেরেছেন। এভাবে বুনে গেলে একটি মোজা তৈরি করতে সর্বোচ্চ ৩০ মিনিট লাগবে। দুটি মোজার ক্ষেত্রে লাগবে এক ঘণ্টা। তো প্রতিদিন একটি মোজা অনায়াসে বানিয়ে নেয়া যাবে। চাইলে কাউকে উপহার বা বিক্রিও করতে পারেন। টিউটোরিয়ালটি ভালো লাগলে লাইক ও শেয়ার করতে ভুলবেন না। সবাই ভালো থাকবেন। সময় নিয়ে পড়ার জন্য ধন্যবাদ।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

%d bloggers like this: