চুল ধৌত করার কাজে বেশ কিছু প্রাকৃতিক উপাদান

চুল ধৌত করার কাজে রিঠা ফল বেশ ভালো প্রাকৃতিক উপাদান

আজকাল চুল ধৌত করতে যেই উপাদানটি সবচেয়ে বেশী ব্যবহৃত হয় তা হচ্ছে শ্যাম্পু বা সাবান। এক সময় বাজারে এই উপাদানটি এত প্রচলিত ছিলো না। তখন চুল ধৌত করতে বিভিন্ন প্রাকৃতিক উপাদান ব্যবহার করা হতো। এর মধ্যে অন্যতম ছিলো সাজি মাটি (এক ধরনের মাটি যা কচলালে ফেনা হয়), বিভিন্ন ভেষজ উপাদান, ডাল ধোয়া পানি ইত্যাদি। আজ আমরা এমন কিছু উপাদান নিয়ে আলোচনা করবো, যা শ্যাম্পুর বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করা যায়।

রোজমেরিঃ

এটা একটা বিদেশী ফুলের নাম। চুলের রং যদি হালকা হয়, তবে রোজমেরি এটাকে গাড় করে তুলতে পারে। এমনকি আপনার চুলের রং যদি কালো অথবা হালকা বাদামী হয় তবে এর ব্যবহারে চুল চিকচিকে হয়ে উঠবে। রোজমেরি হেয়ার ওয়াশ তৈরি করতে দুই টেবিল চামচ রোজমেরির সাথে এক কাপ পানি, দুই টেবিল চামচ আমণ্ড তেল এবং কোয়ার্টার চামচ লেবুর তেল মেশান। পুরো মাথায় গোঁড়া থেকে শুরু করে আগা পর্যন্ত লাগিয়ে ১০ থেকে ১৫ মিনিট রেখে দিন। তারপর ধুয়ে ফেলুন।

বেকিং সোডাঃ

রান্নার কাজে আমরা প্রায়শই বেকিং সোডা ব্যবহার করে থাকি। বেকিং সোডা দাগ ছোপ দূর করতে বেশ প্রসিদ্ধ একটি উপাদান। চুলের ক্ষেত্রেও এটা একইরকমভাবে কাজ করে। আপনি যদি চুলের স্টাইলের কাজে জেল, মুজি, কন্ডিশনার, এবং হেয়ার স্প্রে ব্যবহার করে থাকেন, তবে এর আঠালো ভাব দূর করতে এটা অনেক কার্যকর। বেকিং সোডা মাসে এক অথবা সর্বোচ্চ দুইবার ব্যবহার করা যায়। কারণ এটা খুব বেশী ব্যবহার করার ফলে চুল খুব শুষ্ক হয়ে, এমনকি চুলের আগা ফেটে যেতে পারে।

চুলে বেকিং সোডা ব্যবহার করতে এক কাপ কুসুম গরম পানিতে দেড় চা চামচ বেকিং সোডা মিশিয়ে একটি মিশ্রণ তৈরি করুন। এই মিশ্রণ একটি প্লাস্টিকের বোতলে ঢুকিয়ে ভালো করে ঝাঁকিয়ে মাথায় ব্যবহার করুন। অল্প পরিমাণে নিয়ে আপনার মাথার তালু থেকে শুরু করে চুলের আগা পর্যন্ত লাগান। তারপর ভালো করে ধুয়ে ফেলুন।

র‍্যাসাউল ক্লেঃ

চুলে অন্যরকম কিছু দিয়ে পরিষ্কার করতে চাইলে এটা ব্যবহার করতে পারেন। র‍্যাসাউল ক্লে হচ্ছে মরক্কোর পাহাড়ী এলাকার মাটি, এবং এটা কখনই নষ্ট হয় না। এই মাটি খুব মসৃণ আর সিল্কি হয় এবং এতে খনিজ উপাদান অনেক বেশী থাকে। এই ক্লিনজার চুল এবং মাথার ত্বক থেকে বিভিন্ন দূষিত পদার্থ ও খুশকি দূর করে। এমনকি চুলের গোঁড়া ও বহিরাবরণ আর্দ্র করে তুলতে সহায়তা করে। এই হেয়ার ক্লিনজার তৈরি করতে তিন টেবিল চামচ ক্লের সঙ্গে পরিমাণমত পানি মিশিয়ে  পেস্ট বানাতে হয়। এই পেস্ট আপনার চুলে ও স্ক্যাল্পে ম্যাসেজ করুন। তিন থেকে পাঁচ মিনিট রেখে দেয়ার পর শাওয়ার নিয়ে ধুয়ে ফেলুন। এই ক্লিনজার শুষ্ক এবং ক্ষতিগ্রস্থ চুলের জন্য খুব ভালোভাবে কাজ করে।

কর্ণফ্লাওয়ারঃ

বিভিন্ন ডেজার্ট, স্যুপ ও খাবার তৈরি করতে কর্ণফ্লাওয়ার প্রায় প্রতিটি রান্নাঘরে ব্যবহার করা হয়। এটা দিয়ে আপনি তখনই চুল ধুতে পারেন, যখন অন্য কোনও উপাদান দিয়ে চুল ধোয়ার জন্য আপনার হাতে পর্যাপ্ত সময় না থাকবে। এটা চুলের ময়লা ও তেল দূর করতে সক্ষম হলেও আঠালো ভাব দূর করতে পারে না।

এই ক্লিনজার তৈরি করতে এক টেবিল চামচ লবনের সাথে আধা কাপ কর্ণ পাউডার নিয়ে ঝাঁকানো যায়, এমন একটি জারে ভরে রাখুন। ব্যবহার করতে প্রথমে অল্প পরিমাণে চুলের উপর ছিটিয়ে দিন এবং চুলে ভালোভাবে ব্রাশ করে তেল ও ময়লা দূর করে নিন। এর দ্বারা আপনি খুব সহজেই কোনও পানি ব্যবহার না করেই চুল পরিষ্কার করে নিতে পারবেন।

রিঠাফলঃ

রিঠাফলের ইংরেজী নাম হচ্ছে সোপ প্ল্যান্ট। আয়ুর্বেদ শাস্ত্রে রিঠাফলের বহুমুখী ব্যবহার দেখা যায়। রিঠাফল সাবানের বিকল্প হিসেবে বিশ্বের অনেক দেশেই ব্যবহার করা হয়। রিঠাফল দিয়ে পশমি কাপড় খুব সুন্দরভাবে পরিষ্কার হয়ে যায়। রিঠাফলকে প্রাকৃতিক শ্যাম্পু বলা যেতে পারে। কিন্তু বাজারে প্রচলিত শ্যাম্পুর মত কোনও ধরনের ক্ষতিকর উপাদান এই শ্যাম্পুতে নেই। চুলের যত্নে রিঠাফল ব্যবহার করতে প্রথমে ফল থেকে বীজ বের করে নিন। এরপর এটা পানি দিয়ে সারা রাত ভিজিয়ে রাখুন।

সকালে একটি পাত্রে কিছু পানি নিয়ে ফুটিয়ে নিন। ফুটানো পানির সাথে এই রিঠাফল ও ভেইজি পানি দিয়ে আরো কিছুক্ষণ ফুটান। এবার এটা চুলা থেকে নামিয়ে ঠান্ডা করে ছেঁকে নিন। ঠাণ্ডা হওয়ার পর মিশ্রণটি বেশ পিচ্ছিল হয়ে যাবে। এবার এই পিচ্ছিল পদার্থ শ্যাম্পুর মত মাথার ত্বকে ও চুলে ব্যবহার করুন। ৫ মিনিট সময় নিয়ে এই মিশ্রণটি আপনার মাথার ত্বকে ঘষে ঘষে লাগান। সপ্তাহে একবার করে এই মিশ্রণ শ্যাম্পুর মত ব্যবহার করতে পারেন।

উপসংহার

চুলের যত্নে ও চুল পরিষ্কার করতে মাঝে মধ্যে প্রাকৃতিক উপাদান ব্যবহার করা উচিৎ। কারণ একটানা শ্যাম্পু ব্যবহার করার ফলে চুলের গোঁড়া নরম হয়ে যায় ও আগা ফেটে যায়। এমনকি চুল ভেঙ্গেও যেতে পারে। তাই চুলের পরিচর্যায় মাসে এক থেকে দুইবার প্রাকৃতিক উপাদান ব্যবহার করা ভালো।     

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *