Skip to content

নবজাতক শিশুর জন্য যেসব সংক্রামক রোগের টিকা দেয়া আবশ্যক

সংক্রামক রোগের টিকা

নবজাতক শিশুর জন্য বেশ কিছু সংক্রামক রোগের টিকা এক বছরের মধ্যেই দিয়ে দেয়া উচিৎ। হিসাব করে দেখা গেছে, বর্তমানে একজন নবজাতক শিশুকে মোটামুটি দশটি সংক্রামক রোগের টিকা এক বছরের মধ্যে দিয়ে দেয়া বাধ্যতামূলক। এই টিকাগুলো হচ্ছে,

১। বিসিজি (যক্ষ্মা)।

২। ডিপথেরিয়া।

৩। হুপিংকাশি।

৪। ধনুষ্টঙ্কার।

৫। পোলিও।

৬। হেপাটাইটিস বি।

৭। হাম।

৮। নিউমোনিয়া।

৯। টাইফয়েড।

১০। বসন্ত।

আরো কিছু টিকা আছে যা সবার জন্য বাধ্যতামূলক নয়। সেগুলো হচ্ছে:

১। এইচপিভি বা হিউম্যান প্যাপিলোমা ভাইরাস।(১৫-৪৯ বছরের মেয়ে ও মহিলাদের)

২। ইনফ্লুয়েঞ্জা। (প্রতি বছর)

১। বিসিজি (যক্ষ্মা):

বিসিজি বা যক্ষ্মা একটি সংক্রামক রোগ। এ রোগে মানুষের ফুসফুসসহ যেকোনো অঙ্গ প্রত্যঙ্গ আক্রান্ত হতে পারে। যক্ষ্মা রোগ নিরাময় করতে প্রায় ছয় মাস ঔষধ খেতে হয়। এটা একটি প্রাণঘাতী ও কষ্টদায়ক রোগ। তাই এ রোগ থেকে বাঁচতে আগে ভাগেই টিকা নেয়া ভালো। শিশুর জন্মের এক বছরের মধ্যেই বেশীরভাগ টিকার কোর্স সম্পন্ন করতে হবে। বিসিজি টিকা দেয়ার এক বছরের মধ্যে টিকার জায়গায় ঘা হতে পারে। ঘা না হলে আবার টিকা দিতে হবে।

২। ডিপথেরিয়া টিকা:

এ রোগ হলে শিশুর হৃৎপিণ্ড ও স্নায়ুতন্ত্র আক্রান্ত হতে পারে এবং এর ফলে শিশুর মৃত্যুও ঘটতে পারে। টিকা জন্মের এক বছরের মধ্যেই দিতে হয়।

৩। হুপিংকাশি:

সাধারণত হুপিং কাশিকে বাংলায় পারটুসিস বা ঘুংড়ি কাশি বলে। এ রোগ হলে এক নাগাড়ে কাশি হয়ে থাকে। হুপিং কাশি বা পারটুসিস স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ। বিশেষ করে শিশুদের জন্য। এটি একটি মারাত্মক সংক্রামক রোগ। তাই বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে শিশুদের হুপিং কাশির টিকা দেওয়া আবশ্যক। বর্ডেডেলা পারটুসিস নামক ব্যাকটেরিয়ার জন্য এই রোগ হয়ে থাকে। এই রোগের টিকা দুই মাস বয়স থেকে ডিপথেরিয়া ও ধনুষ্টঙ্কার রোগের সাথে একত্রে দিতে হয়।

৪। ধনুষ্টঙ্কার:

টিটেনাস বা ধনুষ্টঙ্কার রোগ হলে শিশুর দাঁত কপাটি লেগে যায় ও প্রচুর খিঁচুনি হয়। এবং দেহ অনেকটা ধনুকের মতো বাঁকা হয়ে যায়। এই রোগের অন্যান্য লক্ষণ হচ্ছে গিলে খেতে অসুবিধা, পেশীর অনমনীয়তা ও দেহের অন্যান্য অংশে খিঁচুনি। উপযুক্ত টিকা ও রোগ নিবারণকারী ঔষধ নিয়ে এই রোগ প্রতিরোধ করা যায়। জন্মের আগেই শিশুর মাকে এই টিকা দিতে হয়। ১৫-৪৯ বছর বয়সী সকল মায়েরা টিটেনাস ও রুবেলার টিকা নিয়ে রাখলে গর্ভাবস্থায় টিকার প্রয়োজন হয় না।

৫। পোলিও:

পোলিও রোগ হচ্ছে পোলিওমাইলিটিজ নামের এক ধরনের ভাইরাস জনিত রোগ তা ব্যক্তি থেকে ব্যাক্তিতে ছড়িয়ে থাকে। এ রোগ হলে মানুষের হাত পা অবশ হয়ে কার্যক্ষমতা হারিয়ে ফেলে। সাধারণত কিশোর বয়সে এ রোগ দেখা যায়। এর ফলে মানুষ পক্ষাঘাতগ্রস্ত হয়ে পড়ে। সারা বিশ্বে মুখে খাওয়ার পোলিও টিকা প্রচলিত আছে। এ টিকা শিশুদের জন্মের প্রথম বছরেই খাওয়াতে হয়।

৬। হেপাটাইটিস বি:

হেপাটাইটিস বি ভাইরাসের কারণে সৃষ্টি হওয়া যকৃতের প্রদাহ। একে সাধারণত জন্ডিস বলা হয়। এটা একটি মারাত্মক সংক্রামক রোগ, যা যকৃৎ বা লিভারকে আক্রমণ করে। সংক্রমণের প্রাথমিক অবস্থাতে কোনও লক্ষণ প্রকাশ পায় না। সাধারণত জন্মের সময় এ রোগে আক্রান্ত হলে পরবর্তীতে তা ক্রনিক বা দীর্ঘস্থায়ী “হেপাটাইটিস বি”তে রুপান্তরিত হতে পারে। এর ফলে লিভার সিরোসিস বা যকৃতের ক্যান্সার হতে পারে। তাই জন্ম পরবর্তী সময়েই এ রোগের টিকা নিতে হয়।

৭। হাম:

এটা একটি ভাইরাসজনিত রোগ। এর আরেক নাম হচ্ছে জার্মান মিজলস। এ রোগ হলে প্রথমে জ্বর হয় ও শরীর ম্যাজম্যাজ করে। প্রথম এক বা দুইদিন তীব্র জ্বর ও চোখমুখ ফুলে যায়। চোখ লাল হয়ে চোখ দিয়ে পানি ও নাক দিয়ে পানি পড়া শুরু হয়। এর সঙ্গে হাঁচি ও শরীরে ছোট ছোট র‍্যাশ বা ফুসকুড়ি দেখা দেয়। এক সময় তা সারা শরীরে ছড়িয়ে যায় এবং শিশু কিছুই খেতে চায় না। শিশুদের মতো বড়দেরও হাম হতে পারে।

৮। নিউমোনিয়া

বিশ্বব্যাপী শ্বাসতন্ত্রের রোগ হিসেবে নিউমোনিয়া বহুল পরিচিত একটি নাম। এ রোগ হলে ফুসফুসে পানি জমে যায় ও শ্বাসকষ্ট দেখা দেয়। নানা কারণে নিউমোনিয়া হতে পারে। এর মধ্যে ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস, ফাঙ্গাস ও টিবির জীবানু অন্যতম। প্রতি বছর নিউমোনিয়া হয়ে অসংখ্য শিশু মারা যায়। তাই প্রাথমিক অবস্থাতেই এ রোগের টিকা দিয়ে নেয়া ভালো। যেমন, ইনফ্লুয়েঞ্জা রোগের জন্য ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাসের টিকা।

৯। টাইফয়েড।

টাইফয়েড হচ্ছে একটি জীবন সংশয়কারী রোগ, যা রোগীর উপর ব্যাপক প্রভাব ফেলে। এ রোগ হলে জ্বর, দুর্বলতা, ক্ষুধামন্দ্যা, পেটের গন্ডগোল, মাথা ধরা ও কোষ্ঠকাঠিন্য দেখা দেয়। এ রোগ সাধারণত দূষিত খাবার ও পানি ব্যবহারের কারণে ছড়ায়। প্রতি বছর টাইফয়েডে সারা বিশ্বে প্রায় ২ লক্ষ ১৫ হাজার মানুষ মারা যায়। টাইফয়েড রোগের জন্য মুখে খাওয়ার ও ইঞ্জেকশন, দুই ধরণের টিকাই পাওয়া যায়। টিকা গ্রহণ করে এই রোগ ৫০% থেকে ৮০% প্রতিরোধ করা সম্ভব।

১০। বসন্ত

জল বসন্ত ও গুটি বসন্ত হচ্ছে ভাইরাসজনিত ছোঁয়াচে রোগ। এ রোগ হলে সারা শরীরে গুটি গুটি ফোস্কা বা ফুস্কুড়ি দেখা দেয়। যার মধ্যে পানি বা পুঁজ জমে। চোখে গুঁটি উঠলে সে কারণে মানুষ অনেক সময় অন্ধও হয়ে যায়। জল বসন্ত ও গুটি বসন্তের মধ্যে গুটিবসন্তই হচ্ছে সবচেয়ে ভয়াবহ ও মারাত্মক। এটি মারাত্মক ছোঁয়াচে রোগ। তাই জন্মের পরপরই এই রোগের টিকা দিয়ে দিতে হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

%d bloggers like this: