Skip to content

বালক ছেলে আর গাছের বন্ধুত্বের গল্প

গ্রামের শেষ মাথায় বনের ধারে ছিলো একটা আপেল গাছ। গাছটি বেশ ছিমছাম আর এ গাছের ফল গুলো বেশ মিষ্টি। একটা ছোট্ট ছেলে প্রতিদিন এই গাছের নিচে খেলতে আসতো। সে এসে গাছটিকে জড়িয়ে ধরতো। কখনো গাছ বেয়ে ডালে চরতো। তারপর ডাল ধরে ঝুলতে ঝুলতে নিচে পড়তো। মাঝেমধ্যে সে গাছের নিচে ক্লান্ত হয়ে ঘুমিয়ে যেতো। কখনো কখনো গাছের পাতা ছিঁড়ে শুকনো লতা দিয়ে আটকে তা মাথায় পড়তো। অনেকটা প্রাচীন কালের বনের রাজাদের মতো।

তার এইসব ছেলেমানুষী কার্যকলাপ দেখে গাছটা বেশ আনন্দ ও মজাই পেতো। একদিন হঠাৎ গাছটা দেখলো, ছেলেটা আর আসে না। এভাবে দেখতে দেখতে বছর গড়িয়ে গেলো।

হঠাৎ একদিন ছেলেটা আবার গাছের সামনে এসে দাঁড়ালো। এতদিনে সে অনেকটা বড় হয়ে গিয়েছিল। বয়সে সে এখন তরুণ। গাছটি তাঁকে আবার আগের মতোই খেলতে ডাকলো। তার গায়ে চরে আনন্দ করতে বললো।

কিন্তু ছেলেটা জবাবে বললো, আমি তো এখন বড় হয়ে গেছি। আগের মতো খেলা করা তো আমার পক্ষে সম্ভব না। আমার এখন কিছু টাকার প্রয়োজন। তুমি আমাকে কিছু টাকা দিতে পারবে।

জবাবে গাছটা বললো‌, বেশ। আমার কাছে তুমি ফল পাবে। ছায়া পাবে। আমার ডালে ঝুলে তুমি খেলতে পারবে। কিন্তু তোমাকে ত আমি টাকা দিতে পারবো না। তবে আমার ডালে এখনও অনেক আপেল আছে। তুমি সেগুলো নিয়ে বাজারে বিক্রি করে টাকা পেতে পারো।

ছেলেটা গাছের কথামতো আপেল গুলো নিয়ে বাজারে বিক্রি করে টাকা নিয়ে চলে গেল। তারপর আরো অনেক দিন চলে গেলো। গাছটি প্রতিদিনই ছেলেটার অপেক্ষায় থাকে‌‌। কিন্তু তার দেখা কিছুতেই পায় না।

তাঁরও কিছুদিন পর ছেলেটি আবার ফিরে আসলো। এখনো তার মন খারাপ। তার বয়সও এখন আরো একটু বেড়েছে। এবার এসে সে বললো আমি তো অনেক একা। আমি স্ত্রী ও সন্তান চাই। আর এজন্য ঘর বানাতে চাই। তুমি কী আমাকে একটা ঘর বানিয়ে দিতে পারবে?

গাছ বললো, দেখো আমি যদিও ফল ও ছায়া দেই, কিন্তু চলাচল করা আমার পক্ষে সম্ভব নয়। তাই তুমি যদি ঘর বানাতে চাও, তাহলে আমার ডালগুলো কেটে নিয়ে ঘর বানাতে পারো।

সেই মতে, লোকটি গাছের ডাল কেটে নিয়ে ঘর বানালো। এভাবে আরোও অনেক দিন কেটে গেলো। আপেল গাছও অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করতে লাগলো কখন ছেলেটি আবার ফিরে আসে।

তারপর একদিন ছেলেটা আবার ফিরে এলো। এবার সে এসে বললো, আমার মনে অনেক দুঃখ। আমি সব ছেড়ে অনেক দূরে চলে যেতে চাই। তুমি কি আমাকে একটা নৌকা দিতে পারবে। আমি নৌকা দিয়ে এই দেশ ছেড়ে চলে যাবো।

গাছ বললো, আমার কাছে তো তেমন কিছুই নাই। তবে আমার কান্ডটা আছে। সেটা কেটে নিয়ে তুমি নৌকা বানিয়ে যেখানে খুশি চলে যেতে পারো। লোকটা তাই করলো। এখন শুধু বাকি রইলো গাছের গুঁড়ি।

তাঁরও অনেক দিন পর ছেলেটি আবার সেই গাছের সামনে ফিরে এলো। সে এখন অনেক জীর্ন শীর্ন ও বৃদ্ধ হয়ে গেছে। গাছ তাকে দেখে বললো, এতদিন পর তোমাকে দেখে আমার অনেক ভালো লাগছে। কিন্তু দেখো, আমার তো আজ তোমাকে দেয়ার মতো কিছুই নেই। লোকটি এবার বললো, তোমার কিছু থাকলেও কি আমার নেয়ার মতো ক্ষমতা বাকি আছে? আমার তো দাঁতই নেই যে আপেল খাবো। হাত পায়ে শক্তিও নেই যে গাছের ডালে উঠে বসবো। শুধু যদি তোমার একটু ছায়া থাকতো, তাহলে ছায়ার নিচে একটু বিশ্রাম নিতে পারতাম।

গাছ বললো, ছায়া নেই তাতে কি গুঁড়ি তো আছে। তুমি চাইলে আমার এই গুঁড়িতে বসে বিশ্রাম নিতে পারো।

এবার সে গাছের গুঁড়িতে বিশ্রাম নিতে বসলো। গাছটি অনেক দিন পর তার আদরের বন্ধুকে কাছে পেয়ে অনেকক্ষণ গল্প করলো। আর বললো তুমি আমার সব কিছু নিয়ে গিয়েছো, তাতে কি? শেষ বেলায় তুমি আমার কাছে এসেছো এটা দেখেই আমি অনেক খুশি।

আমাদের জীবনে শুধু দুইজন মানুষ এই গাছের মতো। তাঁরা হচ্ছে বাবা আর মা। সব কিছু আমাদের পিছনে ব্যয় করেও আমাদেরকে কাছে পেলেই তাঁরা অনেক খুশি হয়।

নটে গাছটি মুড়োলো, আমার গল্প ফুরোলো।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

%d bloggers like this: