বজ্রপাতে নিজের ও বৈদ্যুতিক যন্ত্রের সুরক্ষায় যা করবেন

বেশ কিছুদিন ধরেই বৃষ্টি হচ্ছে ঢাকা ও ঢাকার আশপাশের অঞ্চলে এবং সেই সাথে বজ্রপাত। একসময় গাছ পালা বেশী থাকার কারনে বজ্রপাতে খুব কম মানুষের মৃত্যু হতো। কিন্তু এখন মুষলধারে বৃষ্টি হলে আমরা প্রায়ই মানুষের মৃত্যুর সংবাদ পাই।

আবার অনেক সময় দেখা যায়, আমাদের বহু দিনের পুরাতন কোনো বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি বা রাউটার বজ্রপাতের কারনে অকেজো হয়ে গেছে। তাই আজকের রচনাটি আমরা এই বিষয়ে লিখবো যে কিভাবে বজ্রপাতের সময় নিজের ও বৈদ্যুতিক যন্ত্রের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হয়।

এখনকার জীবনে প্রতিদিনের অনুষঙ্গ বিভিন্ন মোবাইল, টেলিফোন, ইন্টারনেট, টিভি, ফ্রিজ, ওয়াশিং মেশিন, ইস্ত্রি ও ব্লেন্ডার মেশিন ইত্যাদি। বজ্রপাতের হাত থেকে এই যন্ত্রগুলো রক্ষা করতে বজ্রপাতের সময় এগুলো ব্যবহার করবেন না। প্রয়োজনে সুইচ বন্ধ করে ও প্লাগ খুলে রাখুন‌।

পাকা ভবন ও অন্যান্য স্থানের বিদ্যুৎ নিরোধক দন্ড ও আর্থিং ব্যবস্থা ভালো ভাবে করা হয়েছে কিনা তা নিশ্চিত হতে হবে। বজ্রপাতের সময় বিদ্যুতায়িত হওয়া থেকে বাঁচতে নিচের পদক্ষেপগুলো গ্রহণ করতে পারেন।

১। আকাশে মেঘ দেখলেই দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যেতে চেষ্টা করা।

২। যথাসম্ভব লৌহদন্ড ও বিদ্যুৎ এর খুঁটি থেকে দূরে সরে যাওয়া।

৩। খোলা স্থানে থাকলে দ্রুত কোনো শেড বা ছায়ায় আশ্রয় গ্রহন করা।

৪। উচ্চ স্থান যেমন বাড়ির ছাদ, টিলা বা পাহাড় ইত্যাদি স্থান থেকে সরে যাওয়া।

৫। খোলা স্থান থেকে সরে যাওয়া সম্ভব না হলে যথাসম্ভব নিচু হয়ে বসে পড়া।

৬। উঁচু গাছপালা ও বৈদ্যুতিক খুঁটির আশেপাশে থাকলে সেখানে থেকে তাৎক্ষণিক সরে যাওয়া।

৭। টিনের ঘরের দেয়াল ও জানালা থেকে দূরে থাকা।

৮। বজ্রপাতের সময় ধাতব ও বিদ্যুৎ পরিবাহী বস্তু স্পর্শ না করা।

৯। রাস্তায় গাড়ির ভেতরে থাকলে গাড়ীর দেয়াল বা জানালা স্পর্শ না করা এবং গাড়ীর ভেতরেই অবস্থান করা।

১০। পানি বিদ্যুৎ পরিবাহী। তাই জলাশয় বা পানিতে থাকলে সঙ্গে সঙ্গে উঠে আসুন।

১১। মোবাইল বা বৈদ্যুতিক যন্ত্র ব্যবহার থেকে বিরত থাকুন। প্রয়োজনে মোবাইলের সুইচ অফ করে দিন

১২। বজ্রপাতের সময় জনসমাগম ও ভীর এড়িয়ে চলুন। এবং সঙ্গে মোবাইল থাকলে সুইচ অফ করে দিন।

১৩। ভেজা জুতা পড়ে ও খালি পায়ে বৃষ্টির পানিতে হাঁটবেন না। কারণ, পানি বিদ্যুৎ পরিবাহী হয়ে থাকে। একান্তই হাঁটতে হলে রাবারের বুট পড়ে হাঁটুন।

১৪‌। বাড়ির আর্থিং ব্যবস্থা ও বৈদ্যুতিক নিরাপত্তা সুরক্ষিত করা।

১৫। বৈদ্যুতিক খুঁটি ও তার ব্যবহার না করে ভূগর্ভস্থ বৈদ্যুতিক লাইন ব্যবহার করা।

১৬। বজ্রপাতের সময় রাউটার ও ইন্টারনেট সংযোগ বন্ধ করে রাখুন।

১৭। এ সময় মোবাইলেও চার্জ দেয়া থেকে বিরত থাকুন।

১৮। বাড়ির ছাদে বিদ্যুৎ নিরোধক দন্ড ব্যবহার করুন।

১৯। এসি ও ফ্রিজের সুইচ এবং প্রয়োজনে মেইন সুইচ টিই বন্ধ করে রাখুন। এসব যন্ত্রে ভোল্টেজ স্ট্যাবিলাইজার ব্যবহার করুন। যাতে ভোল্টেজের উঠানামার ফলে যন্ত্রটি নষ্ট না হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *